কারণ দর্শানোর নোটিস পেলেও জবাব দিতে পারেনি অর্ধেকের বেশি কলেজ! কী হবে বিএড-এ ভর্তির?


রাজ্যের বেসরকারি বিএড কলেজগুলির একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জেরে এ বার ভর্তির প্রক্রিয়াতেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জবাব পাঠায়নি ২৫১টি কলেজ। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই কলেজগুলিতে পড়ুয়া ভর্তি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
রাজ্যে খাতায়-কলমে বেসরকারি বিএড কলেজের সংখ্যা ৬০১। তবে বহু কলেজে নিয়মিত পঠনপাঠন হয় না এবং অর্থের বিনিময়ে ডিগ্রি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত ২৮ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা দফতরের ১৫০টি দু’সদস্যের দল আচমকা পরিদর্শন শুরু করে। মোট ৩০০ শিক্ষক ও আধিকারিককে নিয়ে এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’।
পরিদর্শনে গিয়ে কোথাও কলেজের ঠিকানায় প্রাথমিক স্কুল চলতে দেখা যায়, আবার কোথাও কলেজ চত্বরে স্থানীয় যুবকদের তাস খেলতেও দেখা যায় বলে রিপোর্টে উঠে আসে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ছ’সদস্যের বিশেষ কমিটি তৈরি করে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৭ অগস্টের বৈঠকে চিহ্নিত কলেজগুলিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট জানিয়েছিল, কলেজের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে অথবা নির্দিষ্ট ১৫ দিনের মধ্যে জবাব না দিলে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হবে না। ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ওই কলেজগুলিতে পড়ুয়া ভর্তি করা যাবে না।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকেই বিএড-এর ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু নোটিস পাওয়া ৪৫১টি কলেজ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী জানান, এখনও পর্যন্ত ২০০টি কলেজ জবাব দিয়েছে। সেই উত্তরগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখছেন। বাকি ২৫১টি কলেজ এখনও জবাব পাঠায়নি।
সব কলেজের জবাব হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বিএড-এ ভর্তির ক্ষেত্রে কোন কোন কলেজ শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পাবে, তা নিয়ে আগামী দিনে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post