কলকাতা: নয় নয় করে দু'বছর পেরিয়ে গিয়েছে আর জি কর কাণ্ডের পর। এখনও মেয়ের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন রত্না দেবনাথ এবং শেখর দেবনাথ। মেয়েকে বিচার পাইয়ে দিতেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত বলে বার বার করে জানিয়েছেন রত্না। পানিহাটি থেকে বিজেপি-র টিকিটে জয়ীও হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি-র সরকার আসার পরও, তিনি বিধায়ক হওয়ার পরও মেয়ের বিচার অধরা বলেই দাবি করছেন রত্না। একবার ফের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CBI এবং আদালতের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন তিনি।
চার মাস হল রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলকে উৎখাত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটলেও, তাঁর আশা যে পূরণ হয়নি, জানিয়ে দিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না। তাঁর কথায়, "জলের মতো পরিষ্কার। বিচার ব্যবস্থা কোনও দিকেই এগোচ্ছে না। সবাই বলেছিল, (ওই) সরকার থাকলে কিছু হবে না। পরিবর্তন হলে সব কিছু হবে। আমি কিছুতেই রাজি ছিলাম না। কোনও দিন রাজনীতির মঞ্চে পা দিতাম না আমরা। আমার মেয়ে পছন্দ করত না ওটা। ওর বাবার একটা ব্যবসা আছে। সব সময় বলত, 'মা ওটায় রাজনীতি জড়িয়ে আছে। বাবাকে বারণ করবে। বারণ করবে বাপিকে। সেই মেয়ের এমন পরিণতি হল। আমি রাজনীতিতে পা দেব না। অনেকেই বাড়িতে বুঝিয়েছেন আমাকে। বলেছেন, 'আমাদের বাংলা নর্দমা হয়ে গিয়েছে। পড়াশোনার কোনও বালাই নেই। শিক্ষা-স্বাস্থ্য হারিয়ে গিয়েছে'। সেটা তো বেরিয়েইছে ৯ তারিখে আমার মেয়ের মৃত্যুর পর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল বেরিয়ে এসেছে।"
আর জি কর মামলায় তদানীন্তন তৃণমূল সরকারের উপর ভরসা করতে পারেননি কেউ। পরিবারের দাবি মেনে তদন্তভার ওঠে CBI-এর হাতে। কিন্তু CBI-এর তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে অভয়ার পরিবারের। এবার আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন রত্না। তাঁর বক্তব্য, "CBI একটা কথা বার বার বলছে, ওরা ডাক্তার। ওদের এভাবে ধরা যাবে না। সেদিন বিচারকও বলেছেন, ওঁরা ডাক্তার। এভাবে ধরা যাবে না ওদের। আরে! যে মারা গিয়েছিল, সেও একজন ডাক্তার! যারা মেরেছিল ডাক্তার। তারা যদি ডাক্তার হয় ধরা যাবে না! তারা তো আগে ক্রিমিনাল! কেন আমাদের এই শাসনব্যবস্থা? এই পরিষেবা পাল্টানো দরকার।"
আর জি কর কাণ্ডে এখনও তদন্ত চলছে। আজই বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের সোমনাথ দে। তৃণমূলের পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ। প্রমাণ লোপাট করতে তড়িঘড়ি মেয়ের দেহ দাহ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভয়ার মা-বাবা। সেই মামলাতেই গ্রেফতার করা হল সোমনাথকে। ওড়িশা, হায়দরাবাদ হয়ে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন তিনি। মোবাইল ফোন ব্যবহারও বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে খবর। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নাগাল পেল পুলিশ। বেঙ্গালুরু থেকেই সোমনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজই বেঙ্গালুরু সিটি সিভিল কোর্টে পেশ করা হবে তাঁকে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হবে কলকাতায়। এর আগে, এই মামলায় নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।