নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। ঘটনার ৬০ দিনের মধ্যেই, ৫৭ দিনের মাথায় প্রায় ৭০০ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চার্জশিটে মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রভাস মণ্ডল, যিনি তদন্তের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন।
পুলিশের চার্জশিটে প্রভাস মণ্ডলের পাশাপাশি আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবির মোল্লার নাম রয়েছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগের বিষয়ে একাধিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর তদন্তে নামে বিশেষ তদন্তকারী দল। CCTV ফুটেজ, ফরেনসিক তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের বক্তব্যের সঙ্গে সংগৃহীত প্রমাণের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা।
তদন্ত চলাকালীনই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে অবশ্য পরবর্তীতে প্রশ্ন ওঠে এবং কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।
এদিকে, চার্জশিট পেশের পর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। তদন্তকারীদের দাবি, সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। এখন আদালতে সেই চার্জশিটের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।