কলকাতা : জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুমিত রায়ের মোবাইল ফোন কোথায়? তন্ন তন্ন করে খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। CID সূত্রে দাবি, গ্রেফতারির সময় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নেননি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক। মঙ্গলবার তাঁকে নিয়ে কালীঘাট রোডের বাড়িতে যায় CID. সুমিত রায়ের স্ত্রীর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় একটি মোবাইল ফোন। CID সূত্রে দাবি, ওই ফোনটি একেবারে নতুন। সুমিত রায়ের ব্য়বহার করা মোবাইল ফোন তাহলে কোথায়? CID সূত্রে দাবি, সুমিত রায় জেরায় জানিয়েছেন ওই মোবাইল ফোনটি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ থানায় অভিযোগও দায়ের করেননি। তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি ফোনটি কোথাও সরিয়ে ফেলেছেন। মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সুমিত রায়কে।
গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর সুমিত রায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডে। তার পাশের ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডে সুমিত রায়ের বাড়ি। সেখানে সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল সিআইডি। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয় ওই বাড়িতে। সিআইডি আধিকারিকরা আগেই সুমিতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাঁর ফোন কোথায়? সুমিত জানান বাড়িতে স্ত্রী'র কাছে রাখা রয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, গতকালের তল্লাশি অভিযানে সুমিতের কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে একটি ফোন উদ্ধার হয়েছে এবং সেটি আইফোন ১৭ মডেল। সিআইডি সূত্রে খবর, এই ফোনটি নতুন মডেল কারণ আইফোন ১৭ গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেই লঞ্চ হয়েছে। তার আগে অভিষেকের আপ্তসহায়ক যে ফোন ব্যবহার করতেন তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই ফোন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে অনুমান করছেন সিআইডি- র তদন্তকারী আধিকারিকরা।
সুমিত রায়ের কাছে তাঁর পুরনো ফোনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলেই খবর সিআইডি সূত্রে। অভিষেকের আপ্তসহায়ক জানিয়েছেন, পুরনো ফোন বাড়িতে ছিল, তারপর কোথায় গেছে, তিনি জানেন না। ফোন কি খোয়া গিয়েছে, তাহলে তা নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে, ফোন কি বিক্রি করা হয়েছে - এইসব প্রশ্নের জবাবেও কোনও সদুত্তর সুমিত রায় দেননি বলেই জানা গিয়েছে সিআইডি সূত্রে। এর আগেও সুমিত রায় যখন একাধিকবার ভবানী ভবনে জেরার সম্মুখীন হয়েছেন, তিনি তখনও সঙ্গে ফোন নিয়ে যেতেন না বলেই জানা গিয়েছে। তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্যই সুমিত রায় তাঁর পুরনো ফোন অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখতে পারেন বলে অনুমান করছেন সিআইডি- র তদন্তকারীরা।