কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা জমা দিয়েছিলেন সুমিত রায়! শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে আদালতে পেশ করে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল CID. CID হেফাজতে থাকাকালীন জেরার মুখে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাম বলেছেন সুমিত রায়। শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় সুমিত রায়কে আরও এক দফা হেফাজতে চেয়ে মেদিনীপুর আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্যের উল্লেখ করল CID.
গোয়েন্দাদের দাবি, ভবানী ভবনে জেরার মুখে সুমিত রায় জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সুমিত রায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে CID. CID-র ফরওয়ার্ডিং লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমিত রায় জেরায় জানিয়েছেন, ক্য়াশিয়ার টি ঘোষ তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে, তা পার্টি ফান্ডে জমা দিতে বলেন। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা অনুমান করেন, ওই টাকা জমি দুর্নীতির। এই নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সুমিত রায়কে। যদিও ফরওয়ার্ডিং লেটারেই সিআইডি উল্লেখ করেছে, জেরায় সুমিত জানিয়েছেন, দলের কাজে একাধিকবার শালবনি গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি জমি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। এই মামলায় ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার কাছ থেকে কোনও টাকাও নেননি তিনি। কিন্তু এই টাকার উৎস কী? তা জানতে সুমিত রায়কে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় CID. শুনানি শেষে শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় ধৃত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ফের ৫ দিনের CID হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত। শনিবার ভবানীভবন থেকে SSKM হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সুমিত রায়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয় তাঁকে।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ের দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে সম্প্রতি, দায়ের হয়েছে FIR
ডেবরার পর এবার গড়বেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ফের চাকরি-প্রতারণার অভিযোগ উঠল। টাকার বিনিময়ে ৯০ জনকে সরকারি চাকরি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে, সুমিত রায়, আশিক কাজি-সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল গড়বেতা থানা। অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে চাকরি প্রতি রেট বাঁধা হয়েছিল সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। এবং পরবর্তীকালে ২২ লক্ষ টাকা ও সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা করে চাওয়া হয়। নিজেকে বাঁকুড়ার এক তৃণমূলকর্মী বলে দাবি করা এক ব্যক্তির এই অভিযোগপত্রে লেখা রয়েছে - প্রথম দফায় ৯০ চাকরিপ্রার্থীর থেকে মোট ২২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় লেক রোডের একটি ক্যাফেতে সুমিতের সঙ্গে দেখা করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে মোট ৩২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় সুমিতকে।