মনোনয়নই দেননি কেউ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় কোয়েল



তৃণমূলের হয়ে মাত্র তিনমাসের সাংসদ ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে একবারও সংসদে তাঁকে দেখা যায়নি। ছাব্বিশে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন টলি নায়িকা কোয়েল মল্লিক। মাস খানেকের ব্যবধানে ফের সেই রাজ্যসভাতেই আবার যাচ্ছেন তিনি। তবে এবার বিজেপির হয়ে। রাজ্যসভায় কোয়েলের ছেড়ে আসা আসনে আগামী ১৬ অক্টোবর ভোটের দিনক্ষণ ধার্য থাকলেও শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেলেন তিনি। কারণ, এই আসনে লড়াইয়ের জন্য কেউ মনোনয়নই দেননি।
চলতি বছরের এপ্রিলে, বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে রাজ্যসভার চারটি আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অর্থাৎ তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন – কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার ও মেনকা গুরুস্বামী। ছাব্বিশের ভোটে শাসকদলের ভরাডুবির পর জুলাই মাসে, দায়িত্ব নেওয়ার তিনমাসের মধ্যেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন টলি অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তারপর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর ৪ অক্টোবর বিজেপি রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েলের নামঘোষণা করে। কিন্তু তখনও কোয়েল আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদল করেননি। পরদিনই অবশ্য পার্টি অফিসে গিয়ে পদ্ম-পতাকা হাতে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন।
৯ অক্টোবর, শুক্রবার ছিল রাজ্যসভা ভোটের জন্য মনোনয়নের শেষ দিন। তাতে কেউই লড়াইয়ে এগিয়ে আসেননি। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজই কোয়েল জিতে গিয়েছেন। এদিনই তাঁকে জয়ের সার্টিফিকেট দিয়েছেন বিধানসভার সচিব। এবার ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন টলি অভিনেত্রী। মনোনয়নের দিনই জানিয়েছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। এবার বিজেপির হাত ধরে সেই সুযোগ পূরণ হতে চলেছে। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নায়িকার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফলের দিনই রাজ্যসভাতেও বিজেপির জয় বাড়তি আনন্দ গেরুয়া শিবিরে।

Post a Comment

Previous Post Next Post