বেহালায় কলকাতা পুলিশ লেখা মোটরসাইকেলে চারজন যাত্রা, দু’জন হেলমেটবিহীন—ট্রাফিক আইন নিয়ে প্রশ্ন


বেহালায় কলকাতা পুলিশ লেখা মোটরসাইকেলে চারজন যাত্রা, দু’জন হেলমেটবিহীন—ট্রাফিক আইন নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতার বেহালা ডায়মন্ড হারবার রোডে ট্রাফিক আইন মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। অভিযোগ, কলকাতা পুলিশ লেখা একটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে চারজনকে যাতায়াত করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মাথায় হেলমেট থাকলেও বাকি দু’জন ছিলেন হেলমেটবিহীন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আমাদের সাংবাদিক দেব কুমার চন্দ্র। তিনি ক্যামেরায় ঘটনাটি ধারণ করার পাশাপাশি ওই মোটরসাইকেল আরোহীদের প্রশ্ন করেন—একটি মোটরসাইকেলে চারজন মিলে কেন যাত্রা করছেন এবং দু’জনের মাথায় হেলমেট নেই কেন?

সাংবাদিকের প্রশ্নের পরই ওই মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপর আমাদের সাংবাদিক তাঁদের পিছু নিয়ে চলন্ত অবস্থাতেও জানতে চান, কেন একই মোটরসাইকেলে চারজন যাত্রা করছেন এবং কেন দু’জন হেলমেট ছাড়া রয়েছেন।

ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলটিতে ‘কলকাতা পুলিশ’ লেখা ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের নজরে বিষয়টি আনেন আমাদের সাংবাদিক দেব কুমার চন্দ্র। চারজনকে একই মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে বলে বিষয়টি জানানো হলে, কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে বলেন, “আমাদের এখানে কিছু করার নেই, আপনি ডিসিকে মেল করুন।”

এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সামনে যদি কোনও মোটরসাইকেলে একসঙ্গে চারজন যাত্রা করেন এবং দু’জনের হেলমেট না থাকার মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা কী হওয়া উচিত—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়া ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, বেহালা ডায়মন্ড হারবার রোডে কলকাতা পুলিশ লেখা একটি মোটরসাইকেলে চারজন যাত্রা করছেন এবং তাঁদের মধ্যে দু’জন হেলমেটবিহীন। ঘটনাটি যদি সত্যিই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে, তাহলে সাধারণ নাগরিক এবং পুলিশকর্মীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে কোনও পার্থক্য থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল আরোহীরা আদৌ কলকাতা পুলিশের কর্মী কি না, তাঁদের পরিচয় কী এবং ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য কী—তা এই মুহূর্তে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এখন নজর থাকবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হয় কি না এবং সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল ও আরোহীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
গাড়ির নথি পরীক্ষা করেও চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনাটি আরও খতিয়ে দেখতে আমাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর সরকারি গাড়ির তথ্যভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আর সেই যাচাইয়েই সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি অ্যাপে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ওই মোটরসাইকেলটির Insurance এবং Pollution Under Control (PUC)-এর বৈধতার মেয়াদ ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত।
অর্থাৎ, একদিকে কলকাতা পুলিশ লেখা এই মোটরসাইকেলে একসঙ্গে চারজন যাত্রা করছেন, তাঁদের মধ্যে দু’জনের মাথায় হেলমেট নেই—অন্যদিকে সরকারি নথি অনুযায়ী গাড়িটির Insurance এবং PUC-এর বৈধতার মেয়াদও শেষ।
পশ্চিমবঙ্গের ট্রাফিক আইনে বৈধ নথিপত্র ছাড়া গাড়ি চলাচল করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, যে পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেয়, সেই কলকাতা পুলিশ লেখা গাড়ির ক্ষেত্রেই যদি এই ধরনের অনিয়ম থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সাধারণ মানুষের জন্য এক আইন, আর পুলিশকর্মীদের জন্য কি অন্য আইন?

Post a Comment

Previous Post Next Post