পুজোর আগে কতটা প্রস্তুত প্রশাসন? বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী,পুরকর্মীদের বকেয়া মেটানোর নির্দেশ


পুজোর আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর নির্দেশ

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজ্যের সমস্ত পুরসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, শহর ও শহরতলির রাস্তার হাল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে বৈঠকে। উৎসবের মরশুমে নাগরিক পরিষেবায় যাতে কোনও রকম ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজ্যবাসী। বাংলার অলিগলি থেকে শুরু করে বড় শহরের পুজোমণ্ডপ—সর্বত্রই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শনিবার ভোর ৩টে থেকে তর্পণ শুরু হওয়ার কথা। এরপরই দেবীপক্ষের সূচনা। এই আবহে পুজোর আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতটা সম্পূর্ণ, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

**পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর নির্দেশ**

পুজোর আগে পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভাগুলিকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজোর সময় শহর ও শহরতলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে পুরকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উৎসবের আগে তাঁদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে পুজোর দিনগুলিতে বিশেষ সাফাই অভিযান চালানোর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোমণ্ডপ, সংলগ্ন রাস্তা, জনবহুল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। সেই পরিস্থিতিতে কোথাও যাতে আবর্জনা জমে না থাকে, সে বিষয়ে পুরসভাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

**নিরাপত্তায় বিশেষ নজর, চালু হচ্ছে পুলিশের ১১২ নম্বর**

দুর্গাপুজোর সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে কোনও ভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর দিনগুলিতে রাস্তায় মানুষের ভিড়, যানবাহনের চাপ এবং বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করাও পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও খামতি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পুলিশের জরুরি পরিষেবার জন্য ১১২ নম্বর চালুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপদের মুহূর্তে এই নম্বরে যোগাযোগ করলে দ্রুত পুলিশের সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পুজোর সময় কোনও দর্শনার্থী বা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে যাতে দ্রুত প্রশাসনের সাহায্য পান, সেই লক্ষ্যেই জরুরি পরিষেবার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিষেবার কার্যকরী ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঘোষণার উপর নির্ভর করবে।

**রাস্তা মেরামত নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?**

পুজোর প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাস্তাঘাটের অবস্থা। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে যাওয়ার পথে রাস্তার বেহাল দশা থাকলে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, যানজট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। সেই কারণেই পুজোর আগে রাস্তা মেরামতের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দর্শনার্থীদের যাতে কোনও সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই কথা মাথায় রেখে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলাস্তরে যে সমস্ত কাজ এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “দর্শনার্থীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই জন্য রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলাস্তরের বাকি কাজগুলোও হয়ে যাবে।”

**পুজোর আগে প্রশাসনের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ**

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। শুধু কলকাতা নয়, জেলাগুলিতেও বড় বড় পুজোমণ্ডপকে কেন্দ্র করে ভিড় বাড়ে। ফলে নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জরুরি পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে তৎপর থাকতে হয়। কোনও একটি ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দিলে সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলিকে নিজেদের এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাফাই অভিযান, রাস্তার কাজ এবং নাগরিক পরিষেবা সচল রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, পুজোর আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে একাধিক নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানো থেকে শুরু করে বিশেষ সাফাই অভিযান, রাস্তা মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন নজর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজগুলি কতটা সম্পূর্ণ হয় এবং পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ কতটা নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নিতে পারেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post