দিল্লির আন্দোলনের আঁচ এবার কলকাতাতেও। তিলোত্তমার বুকে জ্ঞানেশ কুমার হটাও মিছিলের ডাক কালীঘাটপন্থীদের। আজ, মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে হাঁটতে পারেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মর্মে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। উৎসবের বাংলায় এই মিছিলকে কেন্দ্র করে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। মমতাপন্থীদের এই মিছিল নিয়ে পালটা তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দুর্গা পুজোর সময়ে কোনও বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। এমনকী এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে যথাযথ নির্দেশও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআরকে হাতিয়ার করে ভোটে কারচুপির অভিযোগে বিদ্ধ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে কার্যত একজোট বিরোধীরা। দফায় দফায় উত্তাল রাজধানী। জ্ঞানেশ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাহুল গান্ধী। হস্তক্ষেপ চেয়ে দায়ের করেছেন পিটিশন। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হতে পারে সুপ্রিম কোর্টে। তার মাঝেই এদিন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিলি করা হচ্ছে একটি প্রচারপত্রও। সেখানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক ও তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের কথাও। এই সমস্ত আচরণের প্রতিবাদে আমজনতাকে এককাট্টা হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় কর্মসূচির বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেই খবর।
এরপরেই সোমবার রাতেই এই বিষয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় একটি পুজো উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, “বেরোতে দেব না। সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, রাজাবাজার থেকে এক পা এগোতে দেব না। প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ফোর্সও নামাতে বলেছি। বেরোতে দেব না। কোনও বিশৃঙ্খলা করতে দেব না দুর্গা পুজোর সময়ে।” যদিও এই মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন কি না তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, দুপুর ২ টো থেকে এই মিছিল শুরু হতে পারে। শুধু তাই নয়, মিছিলকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সকাল থেকেই পার্ক সার্কাস এলাকায় কড়া পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর।