‘প্রশ্ন করলেই বিদেশি এজেন্ট’, সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারিতে তোপ আন্নামলাইয়ের, পালটা জবাব বিজেপির


# ‘প্রশ্ন করলেই বিদেশি এজেন্ট’, সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারি নিয়ে আন্নামলাইয়ের তোপ, পালটা জবাব বিজেপির

গণতন্ত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কি ‘বিদেশি এজেন্ট’ তকমা জুটবে? আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলেই কি দেশবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হবে? ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নই তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি কে আন্নামলাই। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদীদের দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের তোলা প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়া উচিত সরকারের। যদিও সিজেপির প্রতিবাদের পদ্ধতির সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত নন। আন্নামলাইয়ের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপি শিবিরও।

বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারি এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে সরব হন আন্নামলাই। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাজকর্ম কিংবা আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকদের অধিকার। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রশ্নকারীদের বিভিন্ন বিশেষণে অভিহিত করা হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আক্রমণ শুরু হতে পারে। এমনকি তাঁদের ‘বিদেশি এজেন্ট’ বলেও দাগিয়ে দেওয়া হতে পারে।

আন্নামলাইয়ের বক্তব্য, সিজেপির প্রতিবাদকে সরাসরি দেশবিরোধী বলে ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে তাদের উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তার জবাব যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিবাদীদের বক্তব্যের সঙ্গে কেউ একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু সেই কারণে তাঁদের প্রশ্নগুলিকে উপেক্ষা করা কিংবা তাঁদের দেশবিরোধী তকমা দেওয়া গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিসরকে সংকুচিত করতে পারে।

তবে সিজেপির পাশে দাঁড়ালেও তাদের প্রতিবাদের ধরন নিয়ে নিজের আপত্তির কথাও স্পষ্ট করেছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি। অর্থাৎ, প্রতিবাদের পদ্ধতিকে সমর্থন না করেও প্রতিবাদীদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আন্নামলাইয়ের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি একদিকে প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে সিজেপির আন্দোলনের পদ্ধতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।

শুধু রাজনৈতিক মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি আন্নামলাই। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যন্তর মন্তরকে কেন প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহারের নিয়ম এবং সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পিছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রতিবাদের জায়গা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ এবং তার ভিত্তি কী, সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা।

এ ছাড়াও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশকর্তাদের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্নামলাই। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং তার আইনি ভিত্তি। কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের কী ধরনের ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা কোথায় এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি কী—এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তিনি।

সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারির পর তাঁদের জামিনের শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্নামলাই। গত ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার জামিনের শুনানি কীভাবে হয়েছে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা দাবি রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর তোলা প্রশ্নগুলির জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, আন্নামলাইয়ের মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপি। ফলে সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজনৈতিক মতপার্থক্যের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রতিবাদের অধিকার, সরকারের জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রতিবাদের পদ্ধতি ও তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও বিতর্ক চলছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা, প্রতিবাদ এবং প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করার অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। আন্নামলাইয়ের বক্তব্যে যেমন সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনই সিজেপির প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে তাঁর আপত্তিও স্পষ্ট হয়েছে। এখন এই বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির তরফে কী অবস্থান নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Post a Comment

Previous Post Next Post