ভুয়ো কোম্পানি খুলে কোটি কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি! সাতসকালে লেকটাউন ও হুগলিতে অ্যাকশনে ইডি


# ভুয়ো কোম্পানি খুলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! সাতসকালে লেকটাউন ও হুগলিতে ইডির হানা, ঘিরে ফেলা হল বাড়ি

ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সেই মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার সাতসকালে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভোর হতেই ইডির আধিকারিকদের একটি দল পৌঁছে যায় লেকটাউনের একটি অভিজাত আবাসনে। সেখানে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। একই মামলার সূত্র ধরে হুগলির উত্তরপাড়াতেও একটি বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার প্লান্ট তৈরির পরিকল্পনা করেছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ঋণের অঙ্ক প্রায় ২৯০ কোটি টাকা বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, যে উদ্দেশ্যে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সেই কাজে তা ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির নামে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে একাধিক সংস্থার যোগ থাকতে পারে। ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা সরানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। কীভাবে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, ঋণের টাকা কোন কোন সংস্থার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কোথায় পৌঁছেছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

এই মামলার সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে লেকটাউনের একটি অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা অশোক সারথির বিরুদ্ধে। পেশায় তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান ইডির আধিকারিকরা। আবাসনের বাইরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যে চলে তল্লাশি অভিযান।

বাড়ির ভিতরে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সংস্থার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাঙ্কের নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর। এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, একই মামলার তদন্তে হুগলির উত্তরপাড়াতেও পৌঁছে যায় ইডির আর একটি দল। সেখানেও একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। তদন্তকারীরা সেখানে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করছেন বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রকল্পে কীভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠল, সেই রহস্যের জট খুলতে চাইছে ইডি। ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে টাকা সরানোর অভিযোগের পিছনে আরও বড় কোনও আর্থিক চক্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায়। লেকটাউন ও উত্তরপাড়ার তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য উঠে আসে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।

Post a Comment

Previous Post Next Post