বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কিন্তু বৈঠক শেষে যে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকেও হাজির হবেন, তা আগে থেকে জানতেন না জোটের অনেক নেতাই। ফলে আচমকাই বদলাতে হল সাংবাদিক বৈঠকের গোটা বসার ব্যবস্থা। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর আচমকা আগমনে।
বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শুরু হয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল, সিপিএম-সহ মোট ১৯টি বিজেপি-বিরোধী দল সেই বৈঠকে যোগ দেয়। বৈঠক চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনার পর দুপুর ২টোর কিছু পরে শুরু হয় বিরোধী জোটের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক।
সাধারণত এই ধরনের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কোন দলের কোন নেতা কোথায় বসবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়। সেই মতো টেবিলের সামনে নেতাদের নাম লেখা নেমপ্লেটও সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। কে কোথায় বসবেন, সেই পরিকল্পনাও ছিল আগে থেকেই। কিন্তু সনিয়া গাঁধীর আচমকা উপস্থিতিতে সেই প্রস্তুতিতে কার্যত ছন্দপতন ঘটে।
সূত্রের খবর, ৭৯ বছর বয়সি কংগ্রেস নেত্রী সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হবেন—এমন কোনও পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। ফলে তাঁর জন্য আলাদা করে কোনও নেমপ্লেট বা বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়নি। সনিয়াকে হঠাৎ সেখানে পৌঁছতে দেখে বিরোধী জোটের নেতাদের একাংশও নাকি বিস্মিত হয়ে যান।
এর পরেই দ্রুত বদলাতে হয় মঞ্চের বসার বিন্যাস। আগে থেকে তৈরি করে রাখা ব্যবস্থা কিছুটা ওলটপালট করে সনিয়া গাঁধীর জন্য জায়গা তৈরি করা হয়। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চে কে কোথায় বসবেন, সেই হিসাবেও আনতে হয় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন।
বিরোধী জোটের বৈঠকে সনিয়ার উপস্থিতি অবশ্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে তিনি মূল বৈঠকে থাকলেও সাংবাদিক বৈঠকে থাকবেন, তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই তাঁর আচমকা আগমনকে ঘিরে তৈরি হয় কিছুটা বিভ্রান্তি।
বৈঠকে ১৯টি বিজেপি-বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে জোটের অবস্থান তুলে ধরার কথা ছিল। তার মধ্যেই সনিয়ার উপস্থিতি বৈঠকের শেষ পর্বে আলাদা করে নজর কাড়ে।
বিষয়টি নিয়ে এনডিটিভির সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সনিয়ার আচমকা উপস্থিতির কারণেই আগে থেকে নির্ধারিত বসার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হয়। ফলে নামের নেমপ্লেট থেকে শুরু করে নেতাদের বসার জায়গা—সব কিছুই শেষ মুহূর্তে সামঞ্জস্য করতে হয়। রাজনৈতিক বৈঠকের মঞ্চে এই ধরনের তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নিয়েই নজর পড়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের।