অষ্টমীতে উত্তর কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীনে বীরাষ্টমীর প্রথা পালন করা হয়। লাঠি খেলার মাধ্যমে এই মণ্ডপে বীরাষ্টমী প্রথা পালন করা হয়। পরাধীন দেশে লাঠি এবং তরোয়াল খেলার মধ্য়ে দিয়ে শরীরচর্চা করতেন বিপ্লবীরা। পরে তা মাতৃ আরাধনার অঙ্গ হয়ে যায়। সেই প্রথা মেনে বাগবাজার সর্বজনীনে এবারও মহাষ্টমীতে আয়োজন করা হয়েছিল লাঠি খেলার। আর তার মাধ্যমেই পালিত হয়েছে বীরাষ্টমী প্রথা।
ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে বেলুড় মঠে শুরু হয় অষ্টমী পুজো। ভোর পাঁচটা চল্লিশ মিনিট থেকে শুরু হয় মহাষ্টমীর পুজো। ইতিহাস, ঐতিহ্য মেনে বেলুড় মঠে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। দেবীকে মৃন্ময়ী রূপে আরাধনার পাশাপাশি কুমারীর মধ্যে মাতৃরূপ দর্শন, এই প্রথা মেনেই প্রতিবারের মতো এবারও বেলুড় মঠে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়৷ সকাল ন'টা থেকে বেলুড় মঠে হয়েছে কুমারী পুজো। কুমারী পুজোর জন্য ৫-৭ বছর বয়সিদের বেছে নেওয়া হয়েছিল। ১৯০১ সালে মা সারদার উপস্থিতিতে শঙ্খ, বাদ্য, অর্ঘ, বলয় ও বস্ত্রাদি সহযোগে ৯ জন কুমারীকে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ৷ সেই থেকেই চলে আসছে এই প্রথা৷ কুমারী পুজো দেখতে সকাল থেকেই বেলুড় মঠে ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ এরপর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মেনে বেলুড় মঠে সন্ধিপুজো শুরু হয়। সকাল দশটা আঠাশ মিনিট থেকে শুরু হয়ে সকাল এগারোটা ষোলো পর্যন্ত চলে সন্ধিপুজো। প্রতিদিনের মতো আজও বেলুড় মঠের মা সারদা সদাব্রত ভবনে সাধারণের জন্য ভোগ বিতরণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় ভক্তদের জন্য় ভোগ বিতরণ। পুজোর এই কদিন সারা দিন বেলুড় মঠে সাধারণের জন্য় অবারিত দ্বার। সন্ধেবেলাতেও মহাষ্টমীতে আরতি হয়েছে বেলুড় মঠে।