অধিনায়কত্ব যেতেই নকভির পাক বোর্ডের নীতি নিয়ে সুর চড়ালেন সলমন আঘা


# অধিনায়কত্ব হারাতেই পিসিবির নীতি নিয়ে সরব সলমন আঘা! নকভির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রাক্তন পাক অধিনায়কের

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নীতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পাক ক্রিকেট বোর্ডের দল পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে, কোনও সিরিজ় কিংবা প্রতিযোগিতা চলাকালীন ক্রিকেটারদের দলে রাখা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর। সলমনের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঝপথে এভাবে দল পরিবর্তন করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে পাক ক্রিকেট কর্তারা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলেই আশা তাঁর।

সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেটে সিরিজ় চলাকালীন ক্রিকেটারদের দলে রদবদলের প্রবণতা বেড়েছে। কখনও আন্তর্জাতিক সিরিজ়ের মাঝপথে ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানো হচ্ছে, আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা চলাকালীন কাউকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে দলের ভারসাম্য এবং ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি, দু’টিই বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন সলমন।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় চলাকালীন এমনই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিসিবি। সিরিজ়ের মাঝপথে সাত জন ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন সলমন আলি আঘাও। আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ় চলার সময় এভাবে ক্রিকেটারদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে সলমনেরও। ফলে বোর্ডের এই নীতি নিয়ে তাঁর আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

শুধু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ই নয়, একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজ়েও। শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতা চলাকালীন পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটার সাইম আয়ুবকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন দল প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে, তখন একজন ক্রিকেটারকে এভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সলমনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি এবং দলের পরিকল্পনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সিরিজ় বা টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে যাওয়ার পর মাঝপথে ক্রিকেটারদের নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি এবং মানসিক অবস্থার উপরেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বোর্ডের উচিত, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে দল নির্বাচন করা এবং প্রতিযোগিতা চলাকালীন অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন এড়িয়ে চলা।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দল নির্বাচন নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবি বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেটারদের নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সিরিজ় চলাকালীন খেলোয়াড়দের সরিয়ে নেওয়ার এই প্রবণতা যে দলের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সলমন।

অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকাকালীন দলের পরিকল্পনা ও ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব ভালোভাবেই বুঝেছেন তিনি। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বোর্ডের নীতির পরিবর্তন চাইছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। এখন দেখার, সলমনের এই অসন্তোষের পর পিসিবি তাদের দল পরিচালনার পদ্ধতিতে কোনও বদল আনে কি না। নাকি আগের মতোই সিরিজ় ও প্রতিযোগিতার মাঝপথে ক্রিকেটারদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতি বজায় রাখে পাক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।

Post a Comment

Previous Post Next Post