ফুটপাথে উনুন জ্বলবে না! বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি




সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ফুটপাথে আগুন জ্বালিয়ে খাবার তৈরিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার জেরে চরম সঙ্কটে পড়েছেন ওই তল্লাটের হকাররা। বিকল্প পরিকাঠামো অর্থাৎ বিদ্যুতের সংযোগ না মিললে খুব শীঘ্রই তথ্যপ্রযুক্তি তালুকের প্রায় ৮০ শতাংশ খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নবদিগন্ত শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষকে (এনডিআইটিএ) চিঠি দিয়ে অবিলম্বে ফুটপাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ অথবা বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পুরনো নিয়ম বহাল রাখার দাবি জানাল ‘সল্টলেক সেক্টর ফাইভ হকার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’।
সংগঠনের বক্তব্য, গত ৩ জুলাই বিধাননগর পুরনিগমের (বিএমসি) কনফারেন্স রুমে এনডিআইটিএ-র এগজি়কিউটিভ অফিসারের মনোনীত ‘প্রভিশনাল টাউন ভেন্ডিং কমিটি’র (টিভিসি) সপ্তম বৈঠক বসেছিল। সেখানে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আরবান স্ট্রিট ভেন্ডার্স রুল ২০১৮’-এর ১৪(৩) ধারা উল্লেখ করে, গত ১৩ জুলাই থেকে ফুটপাথে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এবং আগুন জ্বালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর আড়াই মাস পেরিয়ে গিয়েছে। সামান্য ছাতার তলায় কোনওক্রমে ব্যবসা চালাচ্ছেন হকাররা। কিন্তু খাবার গরম রাখার উপায় না থাকায় বাড়ি থেকে তৈরি করে আনা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং ক্রেতারাও তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিক্রেতারা। বহু হকার ইতিমধ্যেই ব্যবসা গোটাতে বাধ্য হয়েছেন।

হকার নেতৃত্বের বক্তব্য, সেক্টর ফাইভের প্রায় ৯০ শতাংশই খাবারের দোকান এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের বড় অংশই সুলভ ও টাটকা খাবারের জন্য ফুটপাথের এই দোকানগুলির উপর নির্ভরশীল। ২০২০ সালের সংশোধিত নিয়মাবলীতে আগুনের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক গ্যাজেট ও ধোঁয়াহীন চুল্লি ব্যবহারের কথা বলা হলেও, ফুটপাতে সরকারি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেগুলি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের যুক্তি, কেন্দ্রীয় হকার আইন (২০১৪) অনুযায়ী প্রভিশনাল কমিটির কাজ কেবল সমীক্ষা চালানো এবং ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দেওয়া, কোনও স্থায়ী নীতিগত নিষেধাজ্ঞা চাপানোর এক্তিয়ার এই কমিটির নেই।

এনডিআইটিএ-র কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে সংগঠনের সভাপতি ভবতোষ সরকার মূলত দু’টি দাবি তুলে ধরেছেন— ফুটপাথের দোকানগুলিতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধোঁয়াহীনভাবে খাবার তৈরি করা যায়। যতদিন না বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, ততদিন চা-টিফিন ও দুপুরের খাবার গরম রাখার ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থাই বজায় রাখতে দেওয়া হোক। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না মিললে জীবিকা বাঁচাতে আগামী দিনে বড়সড় আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন হকার সংগঠনের অন্যতম প্রতিনিধি ভবতোষ সরকার। এ প্রসঙ্গে নবদিগন্ত শিল্পতালুকের এক কর্তা বলেন, সুরক্ষার স্বার্থে কিছু নিয়ম চালু করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post