চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্রাণ যায় ১৯ জনের, সিট গঠন করল রাজ্য, কারা করবেন তদন্ত?



কলকাতা: চোরবাগানে (Chorbagan) মর্মান্তিক বিপর্যয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্রাণ গিয়েছিল ১৯ জনের। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। চোরবাগান কাণ্ডে সিট গঠন করল রাজ্য সরকার।
কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে সিট গঠন রাজ্য সরকারের। চোরবাগানে অত্যাধিক ভিড়, প্রতিকূল আবহাওয়া, গেট ম্যানেজমেন্ট, গুজব, ইলেকট্রিক্যাল ফেলিওর, প্রবেশ ও বেরনোর পথের অপ্রতুলতা, কাঠামোগত ত্রুটি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা - এমন সব দিক উঠে আসছে বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে।
সিটের চেয়ারম্যান হলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। সিটে রয়েছেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও সিভিল ডিফেন্সের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। সিটে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফের ডিজি ও আইজি। সিটে থাকছেন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের একজন প্রতিনিধি, যিনি জয়েন্ট সেক্রেটারি পদের নীচে নন।
সিটের সদস্য কারা? পুলিশের ডিজি ও আইজি দফতরের প্রতিনিধি, যিনি পুলিশের এডিজি পদের নীচে নন। সিটে থাকছেন কলকাতার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের প্রতিনিধি। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে সিট, আজ থেকেই নির্দেশ লাগু।

কী হয়েছিল চোরবাগানে?
দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চোরবাগানে সর্বজনীনের মণ্ডপে নেমে আসে মৃত্যুমিছিল! পুজো দেখতে গিয়ে সেখানে প্রাণ যায় ১৯ জনের। মৃতদের মধ্যে একজন শিশু ও ১২ জন মহিলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হয়ে আহত হন ২৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছিলেন, "যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এবং একটি করে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে গ্রুপ ডি-তে।"

চোরবাগান সর্বজনীনে দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, "যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে। যে হাসপাতালে তাঁরা ভর্তি হতে চান সেখানে আমরা চিকিৎসা করাব। এবং প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে ৫ লক্ষ করে টাকা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করব।"

Post a Comment

Previous Post Next Post