# ‘মমতাকে দিয়ে হবে না’, বিজেপিকে হারাতে রাহুল গান্ধীর উপরই ভরসা হুমায়ুনের, ২০২৯-এর আগে বিরোধী ঐক্যের ডাক
বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব কার হাতে থাকা উচিত, তা নিয়ে ফের নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। এবার সেই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে আর বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। বরং আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর হাত শক্তিশালী করতে হবে। বিরোধী দলগুলিকে একজোট হয়ে পরিকল্পনামাফিক এগোনোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুনের মতে, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একজন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। আর সেই জায়গায় রাহুল গান্ধীকেই উপযুক্ত বলে মনে করছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিজেপি বিরোধী রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বরাবরই নানা আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মত উঠে এসেছে। সেই আবহে হুমায়ুনের বক্তব্য, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলিকে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু বিজেপির বিরোধিতা করলেই হবে না, সেই বিরোধিতাকে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও প্রয়োজন।
**‘রাহুল গান্ধীর হাত শক্তিশালী করতে হবে’, কেন এমন দাবি হুমায়ুনের?**
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে বিরোধী দলগুলিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে হবে। তাঁর মতে, বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে লড়াই করলে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই বিরোধী দলগুলির নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার উপর জোর দিয়েছেন নওদার বিধায়ক। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, নির্বাচনের ঠিক আগে জোট তৈরি বা আসন সমঝোতার উদ্যোগ নিলে চলবে না। তার জন্য আগে থেকেই সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করতে হবে। হুমায়ুনের মতে, পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে তবেই বিজেপিকে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা সম্ভব।
**‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে হবে না’, কেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন?**
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বয়সের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিকবার নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছেন। সেই কারণে তাঁকে আর নতুন করে জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তিনি।
হুমায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাত বারের সাংসদ এবং তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তবে হুমায়ুনের মতে, সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁর সামনে নানা বাধা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই মমতার বয়সের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।
হুমায়ুনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স হবে ৭৩ বছর। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই পর্যায়ে এসে মমতার পক্ষে জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ হয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে। যদিও এটি হুমায়ুন কবীরের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, বিরোধী শিবিরের সব দলের অবস্থান যে একই, এমন কোনও ইঙ্গিত তাঁর বক্তব্য থেকে পাওয়া যায় না।
**২০২৯-এর আগে বিরোধী ঐক্যই কি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করার পথ?**
আগামী লোকসভা নির্বাচন এখনও কয়েক বছর দূরে। তার আগে বিরোধী দলগুলির মধ্যে নেতৃত্ব, জোটের কাঠামো এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, আঞ্চলিক দলগুলি কী অবস্থান নেবে এবং জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের মুখ কে হবেন, সেই প্রশ্নগুলিও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে সেই বিতর্কই নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁর মতে, বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বিরোধীদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি অভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে বিরোধী শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।
তবে বাস্তবে বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই ঐক্য কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দলগুলির রাজনৈতিক অবস্থান, পারস্পরিক সমঝোতা এবং নির্বাচনী কৌশলের উপর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধী শিবিরের ভিতরে কী ধরনের আলোচনা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। আপাতত হুমায়ুন কবীরের স্পষ্ট বার্তা, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে হবে বিরোধী দলগুলিকে।