# স্মরণীয় হলো না ভুবির কামব্যাক, নো-বলে ৮৯ ম্যাচের ধারা ভাঙলেন তারকা পেসার
চার বছর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না ভারতের অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচে বল হাতে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখতে ব্যর্থ হলেন তিনি। শুধু রান খরচ করাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা একটি ধারাও ভেঙে গেল তাঁর। ৮৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যবধানে এই প্রথম ফ্রন্ট-ফুট নো-বল করলেন ভারতীয় পেসার। ফলে কামব্যাকের ম্যাচে একদিকে যেমন নজির গড়লেন, তেমনই অন্যদিকে তৈরি হল এক অবাঞ্ছিত রেকর্ডও।
ভুবনেশ্বরের মতো অভিজ্ঞ বোলারের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল, নতুন বলে তাঁর সুইং এবং নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথের সাহায্যে কিউয়ি ব্যাটারদের চাপে রাখবেন। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই কঠিন হয়েছে তাঁর জন্য পরিস্থিতি। প্রথম ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে আশার আলো দেখালেও পরের ওভারেই নো-বল করে বসেন তিনি। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা তাঁর নিখুঁত বোলিংয়ের ধারায় ছেদ পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে ভুবির জন্য হতাশার।
**প্রথম ওভারেই নজির, দ্বিতীয় ওভারেই নো-বল!**
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ ভালোই করেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র চার রান দেন তিনি। সেই ওভারে তিনটি ডট বল করে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের রান তোলার গতি আটকে রাখেন। অভিজ্ঞ এই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল ভারতীয় শিবির। নতুন বলে তাঁর এই পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছিল, দীর্ঘ বিরতির পরেও পুরনো ছন্দে ফিরতে পারেন ভুবি।
প্রথম ওভারের সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লেতে সবচেয়ে বেশি ডট বল করার নজিরও গড়েন তিনি। পূর্ণ সদস্য দেশগুলির বোলারদের মধ্যে এই পরিসংখ্যানে নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার টিম সাউদিকে পিছনে ফেলেন ভারতীয় তারকা। অর্থাৎ, ম্যাচের শুরুতেই ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান ভুবনেশ্বর।
কিন্তু ক্রিকেটে পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগে না। প্রথম ওভারে যে বোলারকে বেশ নিয়ন্ত্রিত দেখাচ্ছিল, দ্বিতীয় ওভারেই তাঁর বলে দেখা যায় নো-বল। ফ্রন্ট-ফুট নো-বল হওয়ায় ভুবনেশ্বরের দীর্ঘদিনের একটি ধারাও ভেঙে যায়। ৮৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর এই প্রথম এমন নো-বল করলেন তিনি। ফলে একই ম্যাচে একদিকে যেমন নজির গড়লেন, অন্যদিকে তেমনই অবাঞ্ছিত রেকর্ডের মুখেও পড়তে হল তাঁকে।
**চার বছর পর প্রত্যাবর্তন, কিন্তু কোথায় ছন্দ হারালেন ভুবি?**
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার ক্ষেত্রে একজন ক্রিকেটারের উপর প্রত্যাশার চাপ থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভুবনেশ্বর কুমারের মতো অভিজ্ঞ পেসারের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা আরও বেশি। নতুন বল হাতে সুইং করানো, ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করা এবং রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বহুবার ভারতকে সাহায্য করেছে। সেই কারণেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে নজর ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের।
তবে একটি নো-বল বা একটি খারাপ ওভার দিয়ে কোনও বোলারের সামগ্রিক দক্ষতা বিচার করা যায় না। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে ছন্দ ফিরে পেতে সময় লাগতে পারে। ভুবনেশ্বরের ক্ষেত্রেও পরবর্তী ম্যাচগুলিতে তাঁর বোলিং কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার। প্রথম ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ডট বলের নজির তাঁর অভিজ্ঞতার পরিচয় দিলেও পরের ওভারে নো-বল তাঁর পারফরম্যান্সে হতাশার ছাপ ফেলেছে।
**পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য**
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে না পারলেও ভুবনেশ্বর কুমারের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সিরিজ়ের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে তিনি কীভাবে নিজের লাইন-লেংথ ঠিক রাখেন এবং নতুন বলে কতটা কার্যকর হয়ে ওঠেন, তার উপর নজর থাকবে। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে রান আটকে রাখার পাশাপাশি উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রথম ওভারে নজির গড়েও দ্বিতীয় ওভারে নো-বল করে বসা ভুবির কামব্যাককে তাই পুরোপুরি সুখকর বলা যাচ্ছে না। একদিকে ব্যক্তিগত সাফল্য, অন্যদিকে অবাঞ্ছিত রেকর্ড—দুইয়ের মিশেলেই কেটেছে তাঁর প্রত্যাবর্তনের শুরুটা। এখন দেখার, পরবর্তী ম্যাচগুলিতে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুরনো ছন্দে ফিরতে পারেন কি না ভারতের এই অভিজ্ঞ পেসার।