মূল ঘোষক ছিলেন সেন্টু, কিন্তু ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ কে ঘোষণা করেন, কার নির্দেশে? কালিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে হবে জেরা


# মূল ঘোষক ছিলেন সেন্টু, কিন্তু ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ ঘোষণা করেছিলেন কে? কার নির্দেশে মাইকে বার্তা, কালিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা

চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে ঠিক কী ঘটেছিল, বিপর্যয়ের আগে ও পরে মাইকে কী কী ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই ঘোষণার পিছনে কার নির্দেশ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে যে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটি কে করেছিলেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ওই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধৃত দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় মাইকে ঘোষণা করার মূল দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন ঘোষণা করার দায়িত্ব মূলত তাঁর উপরেই ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বিপর্যয়ের ঠিক আগে এবং পরে যে সমস্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণাটি ঠিক কে করেছিলেন, তা নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।

এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিপর্যয়ের আগে মণ্ডপের পরিস্থিতি কেমন ছিল, কখন দর্শনার্থীদের সতর্ক করা হয়েছিল এবং মাইকে ঘোষণা করার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। ফলে শুধু কে ঘোষণা করেছিলেন, তা জানাই নয়, ঘোষণার সময়, প্রেক্ষাপট এবং তার আগে-পরে কী ঘটেছিল, সেই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

**গ্রেফতার দুই ঘোষক, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন**

‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে মাইকে ঘোষণা করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই ঘোষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথমে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে। পরে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার হন অপর ঘোষক কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। তাঁদের গ্রেফতারের পর থেকেই ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।

তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে সেই তথ্যের সঙ্গে ঘটনার অন্যান্য দিক মিলিয়ে দেখা এখনও বাকি। পুলিশের লক্ষ্য, বিপর্যয়ের আগে থেকে শুরু করে ঘটনার পরবর্তী সময় পর্যন্ত মণ্ডপে কী কী ঘটেছিল, তার একটি নির্ভুল সময়ক্রম তৈরি করা। কোন সময়ে কী ঘোষণা হয়েছিল, সেই ঘোষণার সঙ্গে বিপর্যয়ের সময়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং ঘোষকরা নিজেরা কী জানতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের খবর, দুই ঘোষকের বক্তব্যের মধ্যে কোনও অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করাও পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একজনের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যজনের বক্তব্য মিলিয়ে দেখলে ঘটনার বেশ কিছু অজানা দিক সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

**কার নির্দেশে ঘোষণা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ**

এই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির মধ্যে অন্যতম হল, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন। ঘোষকরা নিজেরাই পরিস্থিতি বুঝে ওই ঘোষণা করেছিলেন, নাকি অন্য কারও নির্দেশে মাইকে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশ ছিল কি না, থাকলে সেই নির্দেশ কখন এবং কী পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, ঘোষণাটি ঠিক কখন করা হয়েছিল। বিপর্যয়ের আগে, নাকি বিপর্যয়ের সময়, অথবা ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ওই ঘোষণা করা হয়েছিল—সময় নির্ধারণ করতে পারলে ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তাই ঘোষকদের বক্তব্যের পাশাপাশি অন্যান্য উপলব্ধ তথ্যের সঙ্গেও সময়ের হিসাব মিলিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

**মুখোমুখি জেরায় মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য**

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সেন্টু এবং কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার কথা ভাবছেন তদন্তকারীরা। দু’জনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তাঁদের বক্তব্য পাশাপাশি রেখে অসংগতি খুঁজে দেখা হতে পারে। বিশেষ করে, ঘোষণার দায়িত্ব কার উপর ছিল, কে কখন মাইক্রোফোন ব্যবহার করেছিলেন এবং ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাইবে পুলিশ।

মুখোমুখি জেরায় দুই ধৃতের বক্তব্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য ধরা পড়লে, সেই পার্থক্যের কারণ জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। একই ঘটনার বিষয়ে দু’জনের বিবরণ কতটা মেলে, তা যাচাই করে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হবে। তবে জেরার আগে পর্যন্ত ঘোষণার প্রকৃত উৎস বা এর পিছনে কারও নির্দেশ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, চোরবাগান কাণ্ডে এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মাইকে করা ওই ঘোষণা। মূল ঘোষক হিসেবে সেন্টুর নাম সামনে এলেও, বিতর্কিত ঘোষণাটি ঠিক কে করেছিলেন এবং তা কার নির্দেশে করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। দুই ঘোষককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে এই রহস্যের কিছুটা সমাধান হতে পারে বলে আশা তদন্তকারীদের। এখন দেখার, জিজ্ঞাসাবাদে সপ্তমীর সন্ধ্যার ঘটনাক্রম সম্পর্কে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না এবং ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ ঘোষণার নেপথ্যের বিষয়টি কতটা স্পষ্ট হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post