খেয়ালখুশিমতো সচিবালয়ের কর্মীদের বদলি নয়, এ বার কড়া নিয়ন্ত্রণ নবান্নের! সব দফতরকে স্পষ্ট নির্দেশ রাজ্যের
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মী নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে এ বার আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল নবান্ন। নিজেদের ইচ্ছেমতো সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য দফতর, ডিরেক্টরেট কিংবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি বা কাজে নিযুক্ত করতে পারবে না কোনও সরকারি দফতর। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত দফতরকে সতর্ক করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের ‘কমন ক্যাডার উইং’-এর লিখিত অনুমোদন ছাড়া সচিবালয় ক্যাডারের কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি করা কিংবা সেখানে বহাল রাখা যাবে না। প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনে কর্মী বণ্টন এবং ক্যাডার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক মহলের নজরে এসেছে, একাধিক সরকারি দফতর নির্ধারিত নিয়মনীতি যথাযথ ভাবে অনুসরণ না করেই সচিবালয়ের ‘কমন ক্যাডার’-এর কর্মীদের বিভিন্ন ডিরেক্টরেট এবং আঞ্চলিক স্তরের কার্যালয়ে নিযুক্ত করছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার পরিচালন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদনও নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন, বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসার পরেই কর্মী নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়েছে নবান্ন।
কমন ক্যাডার উইংয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
নতুন নির্দেশিকার মূল বক্তব্য, সচিবালয় ক্যাডারের কর্মীদের কোথায় এবং কী দায়িত্বে নিযুক্ত করা হবে, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনও দফতর একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বিশেষ করে সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য কোনও ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের কমন ক্যাডার উইংয়ের লিখিত ছাড়পত্র নিতে হবে। এই নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও কর্মীকে অন্যত্র বদলি করা বা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না বলে নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সচিবালয়ের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাডার কাঠামো রয়েছে। সেই কাঠামো মেনেই তাঁদের দায়িত্ব বণ্টন, পদায়ন এবং বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন দফতর নিজেদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে যদি অনুমোদন ছাড়াই কর্মীদের অন্যত্র পাঠাতে শুরু করে, তা হলে গোটা ক্যাডার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কর্মীদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নবান্নের নতুন নির্দেশের মাধ্যমে সেই প্রবণতা বন্ধ করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পদক্ষেপ
রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে কাজের সমন্বয় বজায় রাখা এবং কর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই সচিবালয়ের কর্মীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নবান্নের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও দফতরের নিজস্ব প্রয়োজন থাকলেও তার ভিত্তিতে নিয়মের বাইরে গিয়ে কর্মীদের অন্যত্র পাঠানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশ কার্যকর হলে কর্মীদের পদায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি, কোন কর্মী কোথায় দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বদলি প্রশাসনিক নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করাও সহজ হবে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে কর্মী বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কমতে পারে।
সব দফতরকে নিয়ম মেনে চলার বার্তা
নবান্নের এই নির্দেশের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরকে মূলত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সচিবালয়ের কর্মীদের বদলি বা অন্যত্র কাজে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে আর কোনও রকম একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া চলবে না। কমন ক্যাডার উইংয়ের লিখিত অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের পদক্ষেপ করা যাবে না। প্রশাসনিক নিয়ম মেনে কর্মী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার প্রধান উদ্দেশ্য।
এখন নজর থাকবে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর নতুন নির্দেশিকা কতটা কঠোর ভাবে কার্যকর করে। সচিবালয়ের কর্মীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রশাসনিক কাজে কতটা শৃঙ্খলা আনতে পারে, তা-ও আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। তবে নবান্নের এই পদক্ষেপে কর্মী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব আরও এক বার স্পষ্ট করে দেওয়া হল।