রীতি মেনে মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠ এবং জয়রামবাটিতে কুমারী পুজো, ভক্তদের ঢল


বেলুড় মঠের পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে রয়েছে কুমারী পুজো। অন্যান্য রামকৃষ্ণ মঠের মতোই কুমারী পুজো জয়রামবাটির মাতৃমন্দিরের অন্যতম অঙ্গ। সেই কারণে রীতি এবং ঐতিহ্য মেনে বেলুড় মঠের পাশাপাশি কুমারী পুজো হলো জয়রামবাটিতেও। এই পুজোর দেখার জন্য ভিড় করেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তেরা।

বেলুড় মঠে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কেন্দ্র বেলুড়মঠে সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল। মাতৃরূপে এক কুমারীকে দুর্গা জ্ঞানে পুজো করা হলো বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে। এ বার এখানে কুমারী পুজোর জন্য বেছে নেওয়া হয় হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা দেবাদৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

শাস্ত্র মতে, কুমারী পুজোর মাধ্যমেই নারী শক্তির আরাধনা করা হয়। এক বছরের কন্যা থেকে শুরু করে ১৬ বছর পর্যন্ত কন্যাদের বিভিন্ন রূপে পুজো করার রীতি রয়েছে। আজকের কুমারীকে সাজানো হয়েছিল দেবী দুর্গার সাজে। পুষ্পাঞ্জলি, আরতি এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ পুজো। বেলুড়মঠের এই কুমারী পুজো দেখতে প্রতি বছরের মতো এ বারও হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়।

মাতৃমন্দিরের কুমারী পুজো

রীতি মেনে মা সারদার জন্মস্থান জয়রামবাটির মাতৃমন্দিরেও হলো কুমারী পুজো। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার তিথি ধরে সকালে এই পুজো শুরু হয়। মাতৃমন্দিরের এই কুমারী পুজো দেখতে ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

এ বার এখানে কুমারী পুজোর জন্য বেছে নেওয়া হয় বাঁকুড়া জেলারই জয়পুর ব্লকের ডিহি গ্রামের সৃজিতা ভট্টাচার্যকে। এ দিন কুমারী পুজোর আগে মায়ের পুরোনো বাড়ি থেকে সাড়ে পাঁচ বছরের সৃজিতাকে দুর্গা রূপে সাজিয়ে মাতৃমন্দিরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে দেবী রূপে পুজো করা হয়।

সৃজিতার বাবা শুভদীপ ভট্টাচার্য এবং মা ইপ্সিতা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মাস চারেক আগে নিয়ম মেনে আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মেয়েকেই বেছে নেওয়ায় ভীষণই খুশি এবং গর্বিত তাঁরা।

জয়রামবাটির এই কুমারী পুজো দেখতে শুধু জয়রামবাটি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরে।

Post a Comment

Previous Post Next Post