বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেন, ‘অত ঝামেলা না করে সরাসরি আপনি কংগ্রেসে যোগদান করে যান।’ এমনকী মমতা চাইলে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলায় কংগ্রেস চলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মমতার রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাসও টেনে আনেন অধীর। তাঁর দাবি, রাজীব গান্ধীর হাত ধরেই মমতার রাজনৈতিক উত্থান এবং সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে ‘জায়েন্ট কিলার’ হয়ে ওঠা। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে পরবর্তী রাজনৈতিক পর্বে কংগ্রেস ও সনিয়া গান্ধীর সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে জোটের অঙ্কের পাশাপাশি বাংলার মাটিতে দুই দলের কর্মীদের সম্পর্কই এখন বড় প্রশ্ন বলে দাবি অধীরের।
অধীরের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের হাতে কংগ্রেস কর্মীরা ‘নির্যাতিত’। ফলে দিল্লির জোটের সমীকরণে দুই দল ফের কাছাকাছি এলে নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেই তাঁর বক্তব্য। এই পরিস্থিতির ‘স্থায়ী সমাধান’ হিসেবে মমতাকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধীর।
তাঁর কথায়, ‘আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই কংগ্রেস করব, অসুবিধা কী আছে? উনি তো একসময় কংগ্রেসেরই নেত্রী ছিলেন।’ এই প্রস্তাব কংগ্রেসের হাইকমান্ডের কাছেও তিনি রাখবেন বলে জানান।
সম্প্রতি নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানিয়েছেন মমতা। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। অধীরের দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে সত্যিই জোটের ইচ্ছা থাকলে তৃণমূল নেত্রীকে নিজের দলের প্রার্থীর বদলে রেজিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফিকে প্রকাশ্যে সমর্থনের আহ্বান জানাতে হবে।
অধীরের বক্তব্য, রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্নেই তৃণমূল এখন দিল্লিতে কংগ্রেসের কাছে আসতে চাইছে। সেই সমঝোতার বার্তা যদি সত্যিই থাকে, তা হলে তার সূচনা মুর্শিদাবাদের উপনির্বাচন থেকেই হওয়া উচিত।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অধীররঞ্জন চৌধুরী গতবারের নির্বাচনে (লোকসভা নির্বাচন) মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্তান দল তৃণমূল কংগ্রেস আর নেই। মানুষ আদৌ এঁদের নিয়ে চিন্তিত নন। ফলত এই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কিছু নেই।’