# আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! রাজ্য পুলিশ ও আধিকারিকদের নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় FIR-এর আবেদন, কী অভিযোগ?
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য পুলিশ এবং সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রকাশ্যে পুলিশ আধিকারিক ও সরকারি কর্মীদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছেন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার। শনিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার আইসি-র কাছে ইমেল মারফত ওই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে করা কয়েকটি মন্তব্য। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে যে ধরনের বক্তব্য রাখা হয়েছে, তা যথেষ্ট আপত্তিকর। তাঁর অভিযোগ, অভিষেকের বক্তব্যের মধ্যে সরকারি কর্মী এবং পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে ভয় দেখানো ও হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক মহলে চাপ তৈরির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এবং আইনি গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখার বিষয়টি পুলিশের তদন্তের উপরই নির্ভর করছে।
শনিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার আইসি-কে ইমেল করে রাজীব সরকার গোটা বিষয়টি জানান। তাঁর আবেদন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই বক্তব্যগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হোক। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও পুলিশের তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। ফলে নতুন এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক সামনে এসেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের তরফে এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের অবস্থান কী, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের সাংবাদিক বৈঠকে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ জমা পড়ায় তাঁর আইনি চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ জমা পড়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।