বিশ্ব বাজারের চাপ কাটিয়ে চলতি অর্থবর্ষেও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতির, পূর্বাভাস দিল IMF



কলকাতা: বিশ্বের অন্যতম বর্ধনশীল অর্থনীতি হল ভারতের অর্থনীতি। আর সেই অর্থনীতির উপর এই মুহূর্তে বেশ কিছু চাপ দেখা যাচ্ছে। যদিও এই চাপের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে দারুণ পূর্বাভাস দিল IMF বা ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড। চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যাবে ভারতের অর্থনীতিতে, জানিয়েছে তারা।
বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি একাধিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি, তেমনই রয়েছে আমেরিকার কর বৃদ্ধির মতো বিষয়ও। এ ছাড়াও ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাড়ছে ক্রুড অয়েলের দামও। আর এই সব কারণেই মনে করা হয়েছিল ধাক্কা খেতে পারে ভারতের অর্থনীতি। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের পূর্বাভাস বলছে এই পরিস্থিতির কারণে ভারতের অর্থনীতিতে ধাক্কা আসার সম্ভাবনা প্রায় ভিত্তিহীন।

জুলাই মাসে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড পূর্বাভাস দিয়েছিল যে ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে ৬.৪ শতাংশ। আর এবার সেই বৃদ্ধির পরিমাণ বাড়িয়ে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের পূর্বাভাস চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ। কোন সূত্রে অর্থনীতির বৃদ্ধির পরিমাণ বেড়ে হবে ৭ শতাংশ? ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের পূর্বাভাস বলছে, ভারতের অর্থনীতির দূরন্ত গতি প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আর তার পিছনে রয়েছে স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও পরিষেবা খাতের শক্তপোক্ত কিছু কার্যক্রম।

যদিও ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের এই পূর্বাভাস দেওয়ার এক সপ্তাহ আগেই ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank Of India) একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে ভারতের অর্থনীতি। আর তারপরই পূর্বাভাস ঘোষণা করল ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড।

ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড তাদের শেষতম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের রিপোর্টে বলেছে, "সংশোধনের মাধ্যমে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বতন্ত্র একটা জায়গা দখল করেছে। এর মাধ্যমে ভারতের স্থিতিশীল গতি ও শক্তিশালী বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা, সেটা বৃদ্ধির একটা প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পিছনে রয়েছে ভারতের অনুকূল জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান বিরাট বাজার ও ক্রমাগত পরিকাঠামো গত সংস্কার।

এ ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড আগামী অর্থবর্ষের জন্যও ভারতের বৃদ্ধির হার ধরেছে ৭ শতাংশ। অথচ জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী এই বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল। যদিও, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ ও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলার ফলে একটা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তার পরও এই সংশোধন করেছে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড।

Post a Comment

Previous Post Next Post