উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিংয়ে গিয়ে তুষারঝড়ের কবলে বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা, নিখোঁজ মোট আট জন! কপ্টার নিয়ে তল্লাশি চলছে


# উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিংয়ে গিয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে বাঙালি অভিযাত্রীরা! বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা-সহ নিখোঁজ ৮, হেলিকপ্টারে চলছে তল্লাশি

উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ের মুখে পড়লেন একদল অভিযাত্রী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার পাঁচ বাসিন্দা। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত আট জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের দুই বাসিন্দা এবং উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশির এক বাসিন্দাও। তাঁদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার নামিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার নিখোঁজ অভিযাত্রীদের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রীতে পৌঁছেছিলেন আট জনের ওই অভিযাত্রী দল। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত ট্রেকিং করার। সেই উদ্দেশ্যেই পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝপথে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তুষারঝড়ের কারণে বিপদের মুখে পড়েন অভিযাত্রীরা। এরপর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকুড়ার শালবনি গ্রামের বাসিন্দা তাপস বাউড়ি, রতন ঘোষ, রিন্টু মণ্ডল এবং উদয় ঘোষ। এছাড়াও বাঁকুড়ার কেশরা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ খাওয়াস রয়েছেন ওই দলে। ফলে একই জেলার পাঁচ বাসিন্দার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। অভিযাত্রীদের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিজনেরা।

আট জনের ওই দলে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জন ছাড়াও ছিলেন উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের দুই বাসিন্দা এবং উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশির এক বাসিন্দা। অর্থাৎ, ভিন্ন রাজ্যের আট অভিযাত্রী একসঙ্গে ট্রেকিংয়ে বেরিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত, প্রবল হাওয়া এবং তুষারঝড়ের কারণে ট্রেকিংয়ের পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কেদারতাল যাওয়ার পথও যথেষ্ট দুর্গম। সেখানে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে আটকে পড়লে উদ্ধারকাজ চালানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

নিখোঁজ অভিযাত্রীদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন। কোথায় তাঁদের শেষ অবস্থান ছিল, কোন পথে তাঁরা এগিয়েছিলেন এবং তুষারঝড়ের পর তাঁদের কোনও সন্ধান পাওয়া গিয়েছে কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দার নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসতেই তাঁদের গ্রামগুলিতে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আশা, দ্রুত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তুষারঝড়ের মধ্যে ঠিক কোথায় আটকে রয়েছেন আট অভিযাত্রী? প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁদের অবস্থান নির্ণয় কতটা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আপাতত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তল্লাশি এবং প্রশাসনের উদ্ধার অভিযানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নিখোঁজদের পরিবার ও পরিজনেরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post