# নিট পিজি-র প্রশ্নপত্র প্রকাশে বাধা কোথায়? এনবিইএমএস-এর নীতিতে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট, চাইল লিখিত জবাব
চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট পিজি)। আর সেই পরীক্ষার পরিচালন পদ্ধতি নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য সঠিক উত্তরের তালিকা বা ‘আনসার কি’ প্রকাশ করা হলেও কেন পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র প্রকাশ করা হয় না, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র না দেখেই পরীক্ষার্থীরা কী ভাবে বুঝবেন তাঁদের দেওয়া উত্তর সঠিক ছিল কি না? এই বিষয়ে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
নিট পিজি পরীক্ষার আয়োজন করে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্জ়ামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)। দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর বহু চিকিৎসক এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা, পছন্দের বিষয় এবং প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে এনবিইএমএস-এর পরীক্ষাসংক্রান্ত নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের সম্ভাব্য সঠিক উত্তর জানানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলিও প্রকাশ করা উচিত। কারণ, কোন প্রশ্নের উত্তরে কী বিকল্প সঠিক বলে বিবেচিত হয়েছে, তা না জানলে পরীক্ষার্থীদের পক্ষে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে বোঝা কঠিন। শুধু উত্তরসূচি প্রকাশ করে প্রশ্নপত্র গোপন রাখার যুক্তি কী, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
দেশের অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সঙ্গে নিট পিজি-র এই পদ্ধতির পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, সাধারণত বিভিন্ন প্রবেশিকা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশ্নপত্র এবং সম্ভাব্য উত্তর—দুটিই প্রকাশ করা হয়। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে দেখতে পারেন। কোনও প্রশ্ন বা উত্তর নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানোর সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু নিট পিজি-র ক্ষেত্রে কেন আলাদা নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয় আদালতের কাছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ থাকা উচিত। বিশেষ করে যেখানে একটি পরীক্ষার ফলাফলের উপর বহু চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নির্ভর করছে, সেখানে মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কোনও সংশয় থাকা কাম্য নয়। প্রশ্নপত্র প্রকাশ না করার ফলে পরীক্ষার্থীদের মনে স্বাভাবিক ভাবেই একাধিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে এনবিইএমএস-এর কাছে লিখিত জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন নিট পিজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ করা হয় না, সেই নীতির পিছনে কী যুক্তি রয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তুলনায় এই পদ্ধতি আলাদা কেন, তা ব্যাখ্যা করতে হবে বোর্ডকে।
আদালতের এই অবস্থান নিট পিজি পরীক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষায় বসেও প্রশ্নপত্র ও উত্তরসূচি পাশাপাশি না পাওয়ায় নিজেদের পারফরম্যান্স যাচাই করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে এনবিইএমএস কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। বোর্ডের জবাবের পর পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নপত্র প্রকাশের নিয়মে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন মূল নজর এনবিইএমএস-এর লিখিত জবাবের দিকে। সুপ্রিম কোর্টের এই প্রশ্নের ফলে নিট পিজি পরীক্ষার পরিচালন পদ্ধতি এবং পরীক্ষার্থীদের তথ্য জানার অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।