সাউথ আফ্রিকার কাছে হারের ধাক্কা! ইংল্যান্ড সিরিজ়ে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বাদ কামিন্স, স্টার্ক, হেজ়লউড


# দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের ধাক্কা! ইংল্যান্ড সিরিজ়ে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বাদ কামিন্স, স্টার্ক, হেজ়লউড, বড় সুযোগ তরুণদের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ে হারের ধাক্কা সামলাতে এবার দলের খোলনলচে বদলানোর পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সাদা বলের সিরিজ়ের দল ঘোষণা হতেই ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার তিন অভিজ্ঞ তারকা প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হেজ়লউডের। তাঁদের পরিবর্তে একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্পষ্ট, আগামী দিনের কথা মাথায় রেখে নতুন ক্রিকেটারদের তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়কে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার এই দল নির্বাচন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্যাট কামিন্সের মতো বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের দলে না থাকা নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। শুধু কামিন্স নন, অভিজ্ঞ দুই পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ হেজ়লউডকেও রাখা হয়নি দলে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দলের পুরনো তারকাদের সরিয়ে নতুনদের উপর আস্থা রাখতে চাইছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড?

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ে পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া শিবিরে যে নতুন করে দল গঠন নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে, তা এই দল নির্বাচন থেকেই স্পষ্ট। যদিও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ় সাদা বলের ক্রিকেটের, তবুও প্রথম সারির তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নির্বাচকেরা তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দিতে চাইছেন।

এবারের দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মাহলি বিয়ার্ডম্যান, জেক এডওয়ার্ডস, লিয়াম স্কট, ওলি পিক, নিখিল চৌধরী এবং জেক ফ্রেজ়ার-ম্যাকগার্ক। পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসেবেও তরুণদের উপর ভরসা রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। লাশলন শ এবং স্যাম হার্পারের মতো ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বোলিং বা ব্যাটিং নয়, দলের একাধিক বিভাগেই নতুন প্রতিভাদের পরখ করে নিতে চাইছে অস্ট্রেলিয়া।

এই দল নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি। তাঁর বক্তব্য, এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হলে এখন থেকেই নতুন ক্রিকেটারদের তৈরি করা প্রয়োজন। সেই কারণেই তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেইলির কথায়, এই ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে জাতীয় দলের পরিকল্পনায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের এবং টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটেই অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্বের উপরও বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। একই সঙ্গে নতুন ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয় তৈরি করাও হবে তাঁর অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

সূচি অনুযায়ী, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৩ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এক দিনের সিরিজ় শেষ হওয়ার পর শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে মোট আটটি ম্যাচে নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা।

সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজ়ের দল নির্বাচন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মকে তুলে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কামিন্স, স্টার্ক ও হেজ়লউডের মতো তারকাদের অনুপস্থিতিতে তরুণরা কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, এখন সেটাই দেখার। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর এই নতুন দল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না অস্ট্রেলিয়া, তার উত্তর মিলবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সাদা বলের সিরিজ়েই।

Post a Comment

Previous Post Next Post