# ‘দূষণ মিটবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই’, দীপাবলিতে দিল্লিতে বাজি পোড়ানোর অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের, বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা
দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। আর এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আতসবাজি। তবে বাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই পরিবেশদূষন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি উঠেছে। কিন্তু এ বছর দীপাবলিতে দিল্লিবাসীকে সীমিত সময়ের জন্য বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইচ্ছেমতো বা যে কোনও ধরনের বাজি পোড়ানো যাবে না। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ ব্যবহার করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দিল্লিতে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিলেই যে দূষণের সমস্যা মিটে যাবে, এমন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা নিশ্চয়তা নেই। ফলে শুধুমাত্র বাজির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই এ বছর নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৭ এবং ৮ নভেম্বর দিল্লিতে বাজি পোড়ানো যাবে। অর্থাৎ দীপাবলির আগের দিন এবং উৎসবের দিন, দু'দিনই আতসবাজি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন দিল্লিবাসী। তবে সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে ৯ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে বাজি পোড়ানোর উপর ফের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
শুধু সময়সীমা নয়, বাজি পোড়ানোর জায়গা নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম-সহ সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলির আশপাশে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত জায়গার ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনওভাবেই আতসবাজি ব্যবহার করা যাবে না। মূলত রোগী, প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শীতের শুরু থেকেই দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তে থাকে। তার উপর দীপাবলির সময়ে আতসবাজির ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের। বাতাসে ক্ষতিকর কণা এবং দূষণকারী গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দূষণের প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলেই যে রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় শীর্ষ আদালত। দিল্লির দূষণের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, শিল্পাঞ্চলের দূষণ এবং অন্যান্য উৎস থেকেও বাতাসে দূষণ ছড়ায়। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এ বছর দিল্লিতে দীপাবলির বাজি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির মাঝামাঝি পথেই হাঁটল সুপ্রিম কোর্ট। একদিকে উৎসবের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে একাধিক বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। এখন নজর থাকবে, আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে মানা হয় এবং এই সীমিত সময়ের অনুমতি দিল্লির দূষণ পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।