দীপাবলির সময়ে শর্তসাপেক্ষে দিল্লিতে আতশবাজির অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের, নির্দিষ্ট দেওয়া হলো সময়সীমা



দীপাবলিতে দিল্লি এলাকায় আতশবাজি পোড়ানোর অনুমোদন দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দীপাবলির সময়ে অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ফাটানোর অনুমতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে এরই সঙ্গে  দিল্লি ও লাগোয়া অঞ্চলে (এনসিআর) আতশবাজি পোড়ানোর জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর কতক্ষণ আতশবাজি পোড়ানো যাবে তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারই এই নির্দেশ দেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, উৎসবের আগের দিন ও দীপাবলির দিন (৭ ও ৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। তবে, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, প্রাথমিক ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং যে কোনও সাইলেন্স জ়োনের ৩০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও বাজি পোড়ানো যাবে না। একই নির্দেশ কার্যকর হবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও।

প্রতি বছর দীপাবলির সময়ে দিল্লি এবং আশপাশের এলাকায় (Delhi-NCR) দূষণের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায়। এই নিয়ে প্রশ্ন তোলে একাধিক সংগঠন। গত বছরও অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষ দীপাবলির সময়ে আতশবাজি ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছিল। আর, সোমবার কার্যত গত বছরের রায়কেই মনে করিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দেশ ও প্রসন্ন বি বরালের বেঞ্চ। নির্দিষ্ট দু’টি দিনে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কেবলমাত্র পরিবেশ বান্ধব আতশবাজি (green crackers) ফাটানোর নির্দেশ দিয়েছে ওই বেঞ্চ। সেই সঙ্গে যে সমস্ত অঞ্চলে আতশবাজি ফাটানো যাবে না ওই এলাকাগুলিকে ‘নো ক্র্যাকার্স জ়োন’ ( No-Cracker Zones) বলেও চিহ্নিত করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সেখানে আতশবাজি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিতে মামলা করাও হয়। তবে আতশবাজি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, গত বছর দিল্লি-এনসিআরে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাতাসের মানের কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ফলে সেই নিষেধাজ্ঞা কতটুকু সফল হয়েছে তার স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই রায় দেওয়ার সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ‘একবারে পুরো নিষেধাজ্ঞা জারি করাই হয়তো আদর্শ সমাধান বলে মনে হতে পারে, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আসলেই সেরা উপায় কি না তা বিচারের জন্য আদালতের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’

দীপাবলির একটি সামাজিক ও আবেগগত গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিধিনিষেধগুলি যাতে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ।

Post a Comment

Previous Post Next Post