ময়নাগুড়ি
প্রথমে দেখে মনেই হবে না, এটা একটা সরকারি জুনিয়র বেসিক স্কুল। স্কুলে প্রবেশের গলির দু’পাশে বিভিন্ন বইয়ের ছবি। বেশ কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক লেখার ফ্লেক্স দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। সেই তোরণের গায়ে লাগানো ফ্লেক্সে কোথাও ‘আদর্শলিপি’, কোথাও ‘সহজপাঠ’ বইয়ের ছবি। আবার অন্য এক পাশে লেখা সেই বইগুলির কোনও অংশ। এই ভাবেই সেজে উঠেছিল ময়নাগুড়ি সুভাষনগর জুনিয়র বেসিক স্কুলে প্রবেশের গলি।
স্কুলের গেটে আলাদা করে তৈরি করা হয়েছিল ফুল দেওয়া তোরণ। স্কুলে প্রবেশের পথে ফুল দিয়ে সাজানো দু’পাশ, তার মাঝে নীচে পাতা গালিচা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সোজা স্কুল ভবনে প্রবেশ করছে ছাত্রছাত্রীরা। দেখলে অবাক হতে হয়, এটা কি সরকারি স্কুল। অনেক অভাব–অভিযোগ শোনা যায় এই স্কুলগুলি সম্পর্কে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ির স্কুলে এলে ধারণা বদলে যেতে পারে যে কারও।
এ দিন ছিল ‘বুক ডে’। বই ঘিরে একটি দিন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহ ‘চিলড্রেন্স সেলিব্রেশন ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনটি ‘বুক ডে’ হিসেবে পালন করার কথাও বলা হয়েছিল। সেই কারণেই এই স্কুলের পক্ষ থেকে ‘বুক ডে’ পালন করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে ময়নাগুড়ির আইকন ইউপিএসসিতে দেশের মধ্যে দশম স্থানাধিকারী সুব্রত মণ্ডলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁকে প্রথমে স্কুলের তরফে শাঁখ বাজিয়ে, ফুলের স্তবক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সুব্রত পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বপ্নপূরণ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হার মানবে না।’ পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিশুদের মননের বিকাশও খুব জরুরি বলে জানান সুব্রত।
তাঁর বক্তব্যের পরে ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন বই, নতুন ইংরেজি বছরের ক্যালেন্ডার এবং মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা এবার চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যে পড়ুয়ারা এই স্কুল ছাড়ছে, তাদের মনে এখানকার স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যবস্থা করা হয়েছিল বিশেষ স্মরণিকার।
শিক্ষকদের ছবি সম্বলিত একটি কার্ড ছিল তাতে। ছিল ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের ছবি। সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৌমিক চক্রবর্তীর শুভেচ্ছা বার্তা। এই অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে খুশি পড়ুয়ারা। এক ছাত্রের অভিভাবক আনন্দ রায় বলেন, ‘স্কুলে এ রকম অনুষ্ঠান খুবই জরুরি। এতে পড়াশোনায় ওদের আগ্রহ বাড়ে।’