উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, ‘দিল্লি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি দল দিনহাটায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠিকানা ভেরিফিকেশনের নামে হেনস্থা করছে। স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে না। এর পর একটি রাজনৈতিক দলের লোকেরা ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি গিয়ে বলছে, হয় আমাদের সঙ্গে থাকো, না হলে তোমরা বিপদে পড়বে।’
অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ কেন ভেরিফিকেশন করবে? দরকার হলে আমরা সেটা করব। দিল্লি পুলিশকে এ সব করতে দিচ্ছ কেন?’ এর পরেই উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা, ‘তোমরা বিএসএফকে খিচুড়ি খাওয়াচ্ছ, দিল্লি পুলিশকে বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছ! ডিআইবি ওখানে কি করছে?’
পুলিশ কর্তাদের তিনি বলেন, ‘কাজ না করলে নিয়ম ঠিকমতো না জানলে তাঁকে এসপি করে পাঠাবে না। কেউ যদি মনে করেন এসপি হয়ে আমার এক চোখ থাকবে কাজে, আর এক চোখ থাকবে অন্য জায়গায়। তা হলে এসপি হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথম থেকে বলে দিন, আমি করতে পারব না। আমরাও তাঁর পারফরম্যান্স দেখে নেব।’
সন্ধ্যার পরে ‘মা’ উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গও বৈঠকে তোলেন মমতা। পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘পুলিশের সব থেকে সহজ কাজ হলো বন্ধ করে দেওয়া। কোনও ভিআইপি গেলে বাড়ি-ঘর দোকানপাট সব বন্ধ করে দেয়। চালু রেখে কি করা যায় না? দু’একটা লোকের জন্য গোটা সমাজ ভুগবে?’
তবে পুলিশ সম্পর্কে অন্য বার্তাও এদিন দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা সত্যিকারের কাজ করেন, এ রকম অনেক সৎ পুলিশ অফিসার আছেন। তাঁরা খেটে খান। তাঁদের দিকে তোমরা নজর দাও না। লবি চলে, লবি। এই লোকটা আমার বন্ধু, প্রোমোশন দিতে হবে। ওই লোকটা আমার পরিচিত, ওকে আগে নিয়ে আসতে হবে।’ মমতার প্রশ্ন, ‘কেন, কীসের জন্য? যে কাজের লোক হবে, তাঁকে নিতে হবে। কোনও লবি চলবে না। লবি একটাই, লবি মানুষের।’