বাকি ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ তিন সপ্তাহে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের



নয়াদিল্লি: বাংলায় ৩৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে জটিলতা নিয়ে তাঁরা খুবই উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত এই নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে হবে আচার্য–রাজ্যপালকে— বুধবার ফের এ কথা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্যের সঙ্গে কোনও মতবিরোধ হলে তা দ্রুত মিটিয়ে নিয়ে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কারণ, এর সঙ্গে রাজ্যের অগণিত পড়ুয়ার ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িয়ে৷ পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এর আগেও শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সব পক্ষকে জটিলতা কাটিয়ে নিয়োগ শুরু করতে হবে। তারপরেও যখন সমস্যা মিটছে না, তখন আচার্য–রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কৌঁসুলিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার আলটিমেটামও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

এই আবহে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের কাজ শেষ করা হয়েছে বলে বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জানান আচার্যের আইনজীবী তথা কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি৷ তিনি জানান, আরও তিন সপ্তাহ সময় পেলে তাঁরা রাজ্যের সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি থাকা উপাচার্য পদে নিয়োগের কাজ শেষ করে দেবেন। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কিছু মতপার্থক্য এখনও থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তিন সপ্তাহের মধ্যে তা দূর করা হবে বলে জানান বেঙ্কটরামানি।

তাঁর সওয়াল শুনে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘যখনই আবার মতবিরোধ হবে, তখনই আমাদের সময় দিতে হবে। দয়া করে আমাদের সময় সাশ্রয় করতে সাহায্য করুন। আপনাদের অফিসকে কাজে লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের কাজ শেষ করুন। বিচারপতি সূর্য কান্তের কথার সূত্র ধরেই আচার্যর অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সরকারের তরফে সওয়াল করা বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।

তাঁর সওয়াল, ‘১৭ সংখ্যাটি শুনতে ভালো লাগলেও এটা জানানো দরকার যে, ৩৪টির মধ্যে মাত্র ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপাচার্য নিয়োগের কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তিন সপ্তাহের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল৷ তা করা হয়নি। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা এখনই আট সপ্তাহ পিছনে আছি৷’ সিঙ্ঘভির যুক্তিকে মান্যতা দেওয়ার পরে অ্যাটর্নি জেনারেলকে তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুু এ দিন বলেন, ‘এটা সুপ্রিম কোর্টের আদেশ। এটা নিয়ে আমি আর কী বলব? এটা মুখ্যমন্ত্রী জানেন। কোনও অসুবিধা নেই।’

Post a Comment

Previous Post Next Post