সাঁতরাগাছি
শীত পড়লেও সাঁতরাগাছি ঝিলে দেখা নেই পরিযায়ী পাখির। ফলে পাখি দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন পক্ষীপ্রেমীরা।
ফি বছর শীতে পরিযায়ী পাখির কলতানে ভরে ওঠে সাঁতরাগাছি স্টেশন লাগোয়া বিশাল ঝিল। হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জড়ো হয় ওই ঝিলে। রাজ্য সরকারের বন দপ্তর এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঝিলের মাঝখানে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ‘দ্বীপে’ পাখিরা বসত গড়ত।
নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি হিমালয়ের পাদদেশ, মানস সরোবর এমন কী সাইবেরিয়া থেকেও এখানে খাবারের সন্ধানে চলে আসত। ৩৩ বিঘা এই ঝিলে দেখা যেত লেসার হুইসলিং ডাক, কমন টিল, গাডওয়াল, নর্দার্ন পিনটেল, গার্গেনি, ফেরুজেনাস পোচার্ড, পিগমি গুজ়, নাকটার মতো বিভিন্ন পাখি। পাশাপাশি পানকৌড়ি, মাছরাঙা, জলপিপি, নানা ধরনের বকের মতো দেশি পাখিও ভিড় করত।
কিন্তু এ বছর সময়মতো ঝিল পরিষ্কার না হওয়ায় গোটা ঝিল কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। বসার জন্য দ্বীপ তৈরি না হওয়ায় পাখিরা এসেও অন্য জায়গায় উড়ে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর পরেই ঝিল পরিষ্কারের কাজে হাত দেয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কচুরিপানা দিয়ে ছোট ছোট দ্বীপ তৈরি করে দেওয়া ছাড়াও ঝিলের অতিরিক্ত কচুরিপানা তুলে নিয়ে পাখিদের চরে বেড়ানোর জায়গা করে দেওয়া হয়। সেই কাজটাই এ বার না হওয়ায় পাখিরা মুখ ফিরিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন নর্দমার জল ঝিলে মিশে জলের দূষণমাত্রা বেড়ে গিয়েছে। এতে পাখিদের খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। ঝিলের চারপাশে বহুতল বাড়ি নির্মাণ এবং ট্রেনের যাতায়াতের শব্দে অতিষ্ঠ পাখিরাও আর এখানে বসতে চাইছে না।