প্রায় ৭৫ বছর পরে ফের গন্ডার পেতে চলেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। ওই বাঘবনের পশ্চিম অংশের নিমাতি রেঞ্জের জঙ্গলের গভীরে তৈরি করা হয়েছে ৬০ হেক্টরের একশৃঙ্গ গন্ডারদের বিচরণ ভূমি। সেখানেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের গন্ডারদের ভিড় কমাতে প্রাথমিক ভাবে একজোড়া গন্ডার এনে ছাড়া হবে। তার মধ্যে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী।
বন দপ্তরের নথি অনুসারে শেষ বারের মতো ১৯৬০ সালে গন্ডারের দেখা মিলেছিল বক্সার জঙ্গলে। ১৯৮২ সালে আরও একবার বক্সায় গন্ডারের দেখা মিললেও তা ছিল জলদাপাড়া থেকে আসা পরিযায়ী গন্ডার।
বক্সায় ফের গন্ডার ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর আগে নতুন করে গন্ডারদের আবাসস্থল তৈরির কাজে হাত দেয় বন দপ্তর। আট বছর ধরে নিমাতি রেঞ্জের জলযুক্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয় ৬০ হেক্টরের তৃণভূমি। গন্ডারদের সুরক্ষায় তৈরি করা হয় মাল্টিপারপাস ওয়াচ টাওয়ার ও অন্য পরিকাঠামো।
অথচ স্বাধীনতার আগে বক্সার জঙ্গলে বাঘ–হাতির সঙ্গে একশৃঙ্গ গন্ডার ও ওয়াটার বাফেলোদের ঘনবসতি ছিল। তার পরে আশির দশকে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্যে বক্সার জঙ্গল থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায় একশৃঙ্গ গন্ডার, ওয়াটার বাফেলো ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
অন্যদিকে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মাত্র ২১৬.৫১ বর্গকিলোমিটারের জঙ্গলে অন্য বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে একশৃঙ্গ গন্ডারদের সংখ্যা বর্তমানে ৩৩১টি। যার ফলে ওই ভিড়ের চাপ কমাতে রাজ্যে গোরুমারা ও জলদাপাড়ার পরে বক্সার নিমাতি এলাকায় গন্ডারদের তৃতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় বন দপ্তর।