প্রতি বুথে গায়েব ২০০ ভোটার, নালিশ তৃণমূলের


রাজ্যের কিছু জেলার কিছু বুথে ২০০২–এর মুদ্রিত ভোটার তালিকার (হার্ড কপি) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া তালিকার মিল নেই বলে তৃণমূল আগেই অভিযোগ করেছিল। এ বার জোড়াফুল অভিযোগ করল, রাজ্যের প্রতিটি বুথেই ২০০২–এর মুদ্রিত ভোটার তালিকায় নাম থাকা অন্তত ১৫০–২০০ ভোটারের নাম ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে।

রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূলের দুই সাংসদ পার্থ ভৌমিক ও বাপি হালদার শনিবার নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে ২০০৩–এর ভোটার তালিকাকে মাপকাঠি ধরে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন হলেও কমিশন এর কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে শনিবার দেখা করে, স্মারকলিপি দিয়ে ব্যারাকপুরের জোড়াফুল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বুথে ভোটার তালিকায় দেখবেন ১০০–১৫০ নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের প্রতিটি থেকে যদি একশো নাম বাদ যায়, তা হলে সেই সংখ্যা কত হয়! চক্রান্ত কোথা থেকে শুরু হয়েছে বুঝতে পারছেন। আমরা সিইও–কে বলে গেলাম, আপনার ঘর থেকে বেরনোর পরে বিজেপি নেতারা এই সব সংখ্যা (নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা) বলছেন কী করে? তা হলে আপনি কি সেই সংখ্যা বলে দিচ্ছেন?’

অরূপের কথায়, ‘ওয়েবসাইটে ২০০২–এর ভোটার লিস্টে ভোটার কার্ডের নম্বর ভুল রয়েছে। ভুল ছবি বসানো হয়েছে। এক মহিলার বাবাকে রিলেশনশিপের জায়গায় লেখা হয়েছে স্বামী। কোথাও নাম রয়েছে স্বামীর, কিন্তু রিলেশনশিপে বলা হয়েছে বাবা।’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর বিধানসভা এলাকায় বিএলও–রা ডেটা এন্ট্রির সময়ে ২০০২–এর ভোটার তালিকা খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাপি হালদার। তাঁর কথায়, ‘জয়নগরের কোনও ভোটার কমিশনের ২০০২–এর তালিকা থেকে তথ্য নিয়ে ফর্ম পূরণ করার পরে বিএলও যখন ডিজিটাল ম্যাপিং করতে যাচ্ছেন, সেখানে ২০০২–এর কোনও রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না। কুলপিতে ২০০২–এর ভোটার তালিকা দিতে পারেনি কমিশন। এখনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি যে, ২০০৩–এর ভোটার তালিকাকে মাপকাঠি করা হবে।’

রাজ্যে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএলও’রা এনিউমারেশন প্রক্রিয়া চালাবেন। এই বিপুল পরিমাণ গরমিল থাকায় কী ভাবে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ভোটারের তথ্য আপলোড হবে সেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।

Post a Comment

Previous Post Next Post