ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুর সফর এবং ন্যানো কারখানার জমিতে সভার পাল্টা হিসেবে আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন সিঙ্গুরে প্রশাসনিক অনুষ্ঠান ও জনসভা দুটিই হতে পারে, যদিও এখনও চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক হয়নি।
দলীয় সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ২৮ জানুয়ারির কর্মসূচিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। ওই দিন রাজ্য সরকারের তরফে সিঙ্গুরে প্রশাসনিক কর্মসূচির আয়োজন করা হতে পারে। যেখানে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কিস্তি প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বিতরণ করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। রাজনৈতিক সভা হোক বা না হোক, মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য যে থাকবেই, তা কার্যত নিশ্চিত বলে জানিয়েছে তৃণমূলের একাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুর সভার পাল্টা হিসেবেই এই কর্মসূচি কি না এই প্রশ্নে তৃণমূল সূত্রের স্পষ্ট বক্তব্য, “অবশ্যই।” বিধানসভার ট্রেজারি বেঞ্চের এক প্রবীণ সদস্য জানান, বিজেপির অন্দরেও অনেকে মনে করছেন, মোদীর সিঙ্গুর সভা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবু ভোটের মরসুমে কোনও রকম ঢিলেমি দিতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির প্রতিটি রাজনৈতিক আক্রমণের জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত।
তৃণমূলের সিনিয়র ওই নেতার মতে, সিঙ্গুর সভায় শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা দলের অনেকের কাছেই বিস্ময়য়ের এবং তা মমতার পাল্টা আক্রমণকে সহজ করেছে। তবে এসআইআর (Special Intensive Revision), পরিযায়ী ইস্যুতে যে ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে হেঁটেছে তৃণমূল কংগ্রেস,দলনেত্রী ভোটের আগে কোনওভাবেই সিঙ্গুরের মোদীর সভাকে হালকা ভাবে নিতে চান না। উল্লেখ্য, হুগলি জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব জানুয়ারির শেষের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও পাল্টা কর্মসূচির জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য 'সিঙ্গুর' আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলনই ২০১১ সালে তাঁকে ক্ষমতায় আনতে বড় ভূমিকা নেয়। পরবর্তীতে সেই কারখানা সরে যায় গুজরাতের সানন্দে, যখন নরেন্দ্র মোদী সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
আজও হুগলি জেলার ওই এলাকায় প্রায় এক হাজার একর পরিত্যক্ত জমি চাষের অনুপোযুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ বেআইনি ঘোষিত হলেও, সিঙ্গুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “২০১৬ সালে উনি সর্ষে বীজ বপন করেছিলেন । ২০২৬ সালে হয়তো রজনীগন্ধার চারা লাগাবেন। এর বেশি আর কীই বা করবেন!"