নদী-ঘাট দখল করে বেআইনি বালির কারবার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার জমির মাটি


নদীঘাট দখল করে অবৈধ ভাবে বালি-পাথরের ব্যবসা চলার অভিযোগ। ধূপগুড়িতে জলঢাকা নদীর বিসর্জন ঘাটে বেআইনি ভাবে বালি মজুত করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর বাঁধ, বিসর্জন ঘাট ও নদী সংলগ্ন এলাকার জমির মাটি। ইতিমধ্যেই নদীর পাড়ের একাংশ বসে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

কী অভিযোগ?
অভিযোগ, জলঢাকা নদী থেকে বালি তুলে তা নিয়ে এসে মাগুরমারী-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জলঢাকা নদীর দশমীর বিসর্জন ঘাটে মজুত করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত আটটার পর থেকেই ভিন রাজ্যের বড় বড় ট্রেলার ও লরির দাপাদাপি শুরু হয় ওই এলাকায়। নদীর বিসর্জন ঘাটে মজুত থাকা বালি জেসিবি ও আর্থমুভারের সাহায্যে লোড করা হয়। এরপরে সেগুলি বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, সেচ দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। এই নদীঘাট তৈরির জন্য সেচ দপ্তরের তরফে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। পাশাপাশি কুমলাই নদীতে ছট পূজোর ঘাট, জলঢাকা নদীর বিসর্জন ঘাট-সহ আরও কিছু কাজের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই বিসর্জন ঘাট বিপদের মুখে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ভাবে আর্থমুভার-সহ ভারী যানবহনের দাপাদাপিতে আগামী বর্ষায় জলঢাকা নদীর ওই অংশ ভেঙে গিয়ে গোটা গ্রামে জল ঢুকে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রাজ্য সড়ক, এমনকী জাতীয় সড়কও। পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাস-এর কর্মকর্তা নফসর আলি বলেন, 'নদীর ঘাটে যে ভাবে বালি মজুত করা হচ্ছে, তার ফলে নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্ষায় প্লাবিত হতে পারে গ্রাম। এমনকী, জলঢাকা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কী ভাবে সকলের সামনে এই ধরনের কাজ চলছে আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।'

Post a Comment

Previous Post Next Post