ইউরোপের সামরিক শক্তিকে ‘তাচ্ছিল্য’ নেটোর! দাবি, মার্কিন সেনার সাহায্য ছাড়া ওরা নিজেদের বাঁচাতেও পারবে না


আমেরিকার সাহায্য ছাড়া সামরিক ভাবে ইউরোপ কিচ্ছু না! গোটা ইউরোপ এক হয়ে গেলেও তারা মার্কিন সাহায্য ছাড়া নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। এমনটাই দাবি মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো-র।

গ্রিনল্যান্ডের ‘দখল’ করার জন্য সম্প্রতি ফের উঠেপড়ে লেগেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এমন আচরণে সায় নেই ইউরোপীয় দেশগুলির। তা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে এসেছে। এ অবস্থায় ইউরোপের সামরিক ‘দুর্বলতা’ নিয়ে মন্তব্য করলেন নেটো প্রধান মার্ক রুটে। নেটো মহাসচিব রুটের কথায়, যদি কেউ ভাবেন আমেরিকার সাহায্য ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা গোটা ইউরোপ (ব্রিটেন-সহ) মিলে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে, তবে তিনি তা স্বপ্নই থেকে যাবে। এটা কোনও দিনই সম্ভব নয়।”

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সোমবার ইউরোপীয় জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ছিল নেটো প্রধানের। ওই বৈঠকেই ইউরোপের সামরিক ক্ষমতা নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। তবে রুটে এ-ও জানান, ইউরোপ এবং আমেরিকা উভয়েরই একে অপরকে প্রয়োজন।

সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ইউরোপে নেটোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টারে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে নেটোপ্রধানের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বস্তুত, আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি সমর্থন না-করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালিকায় রয়েছে আমেরিকার বেশ কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কূটনৈতিক পদক্ষেপের জবাব দিতে কী কী সম্ভাব্য দিক খোলা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় বসে ইউরোপীয় দেশগুলিও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে রয়েছে ‘ট্রেড বাজ়ুকা’ বা ‘শুল্ক-ব্রহ্মাস্ত্র’-এর মতো হাতিয়ারও। এর মাধ্যমে কোনও দেশের বিরুদ্ধে সমবেত ভাবে শুল্ক-কোপ বসাতে পারে ইউরোপীয় জোট। তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। সব মিলিয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকার মধ্যে এক কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে গত এক মাসে।

Post a Comment

Previous Post Next Post