মুখ্যমন্ত্রীর সাধের বাড়ি এখন যেন ধ্বংসস্তূপ


রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করে দেওয়া নকশায় গড়া হয়েছিল বাড়ি। বাড়ির আসবাবপত্রও এসেছিল তাঁর পছন্দ অনুযায়ী। একদিনের জন্যও অবশ্য সেই বাড়ির উঠোনে পা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। আজ ধ্বংসের মুখে সেই বাড়ি। ১১ বছর আগে বর্ধমানের কৃষি খামার এলাকায় 'মাটি-তীর্থ কৃষি কথা'-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের সেই বাড়ি দেখিয়ে বলেছিলেন, 'এই যে দেখছেন মাটির বাড়ি, এটা আমার। বর্ধমানে এলে এখানেই থাকব। মাটির সঙ্গে আমার বহু দিনের টান। তাই গ্রামের এই পরিবেশে আমি থাকব।'

একদিনের জন্যও অবশ্য পা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী এখানে। সরকারি ভাবে এটি 'মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি' বলেই চিহ্নিত হয়ে রয়েছে এখনও। বর্ধমানের কৃষি খামারের মাটি তীর্থ-কৃষি কথা প্রাঙ্গণে কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি সেই বাড়ি আজ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়ির নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। প্রবল কাজের ফাঁকে কিছুটা চাপমুক্ত হতে সবুজের মাঝে নিরিবিলিতে বসে গান-কবিতা-ছবির চর্চা করার ইচ্ছে ছিল তাঁর। মাটি-মেলার উদ্বোধনে এসে নিজেই সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও একবারও নিজের সেই বাড়িতে গিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। শুধু তাঁর বাড়ি বলেই নয়, ২৫ একর জমিতে এখানে তৈরি হয়েছিল কৃষকদের নানা সুবিধা দেওয়ার জন্য মাটি-তীর্থ-কৃষি কথা। এখানে শেষ বার অনুষ্ঠান হয়েছে ২০২২-এর ২৭জানুয়ারি। এখন চারপাশে আগাছার জঙ্গল। চারদিকে থাকা চাষিদের জন্য তৈরি হওয়া স্থায়ী স্টলগুলি ভগ্নপ্রায়। মূল মঞ্চ ভেঙে পড়েছে। ন্যূনতম নজরদারি নেই কোথাও।

বর্ধমান কৃষি খামার এলাকার এক কৃষক মহাদেব সাহা বলছিলেন, 'প্রায় চার বছর এটা তালা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। কোনও অনুষ্ঠান হয় না। আগে প্রতি বছর অনুষ্ঠান হতো। সারা বছর চাষ সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে কৃষি বিশেষজ্ঞরা আসতেন। এখন তো এক মানুষ উচ্চতার জঙ্গল তৈরি হয়েছে। সব কিছু ভেঙে পড়ছে।' আর এক এক চাষি সনাতন ঘোষের মন্তব্য, 'এখানে অনেক বড় চাষি এসে চাষ সংক্রান্ত নানা ধরনের কথাবার্তা বলতেন, তাতে আমাদের উপকারও হয়েছিল। এখন তো সবই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। কয়েক কোটি টাকা জলে গেল সরকারের।'

নাম না-প্রকাশের শর্তে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, 'আগে পানাগড় এলাকায় এই অনুষ্ঠানের নাম ছিল মাটি উৎসব। পরে মুখ্যমন্ত্রী এর নামকরণ করেন মাটি-তীর্থ কৃষি কথা। এখানে ওঁর একটি বাড়িও তৈরি করা হয়েছিল। ২৫ একর জমিতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট ছিল স্থায়ী ভাবে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিস্থিতি এখন খুবই খারাপ। সমস্যা হলো, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?' পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, 'আমরা খুব শিগগির ওই এলাকা পরিষ্কার করার কাজে হাত দেবো।'

Post a Comment

Previous Post Next Post