বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কতগুলি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করল ঢাকা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং থেকে সোমবার এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৫ সালে যত অপরাধের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে, তার অধিকাংশই অসাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধমূলক। ধর্ম বা জাতির সঙ্গে অধিকাংশ অপরাধের কোনও যোগ ছিল না। পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এবং তাদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি অস্বস্তিকর ‘প্যাটার্ন’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দৃঢ় ভাবে এর মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এর ১০ দিনের মাথায় সংখ্যালঘু সমস্যার ব্যাখ্য দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করল ইউনূসের সরকার।
ঢাকার দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত মোট ৬৪৫টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার চরিত্র অসাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধমূলক। এই ৭১টি সাম্প্রদায়িক অপরাধের ক্ষেত্রে ৫০টিতে পুলিশের খাতায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সমসংখ্যক গ্রেফতারিও হয়েছে। এ ছাড়া ২১টি ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘুরা জড়িয়ে আছেন, এমন বাকি ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে ইউনূসের দফতর। এগুলির নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক গোলমাল, পারিবারিক অশান্তি, জমি সংক্রান্ত বিবাদ, চুরি বা ধর্ষণের মতো অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে ৩৯০টি মামলা রুজু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৪টি। মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। এ ছাড়াও আরও ৩০টি ঘটনায় বাড়তি পদক্ষেপ করেছে বাংলাদেশের পুলিশ।
ইউনূসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘প্রতিটি ঘটনাই উদ্বেগের। তবে পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনাই অপরাধমূলক এবং অসাম্প্রদায়িক।’’
২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭.৯৫ শতাংশ হিন্দু, ০.৬১ শতাংশ বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন ০.১২ শতাংশ। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রদায়ের সংগঠনও একাধিক বার সেই অভিযোগ তুলেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।