২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদিয়ায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। রবিবার চাপড়ায় রোড-শো করতে এসে কৃষ্ণনগরে বিজেপির দলীয় কার্যালয় নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, অন্যের জমি দখল করে ‘অবৈধভাবে’ পার্টি অফিস চালাচ্ছে বিজেপি। অভিষেকের এই মন্তব্যের সমর্থনে মুখ খুলেছেন ওই বাড়ির মালিকও। অন্যদিকে, যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা আইনি যুক্তি খাড়া করেছে বিজেপি।
কী বলেছেন অভিষেক?
রবিবার চাপড়ার সভায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যে দল কৃষ্ণনগরে অবৈধভাবে পার্টি অফিস চালায়, তারা বাংলার ১০ কোটি মানুষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করে কী ভাবে? যাদের নিজেদের পার্টি অফিস অবৈধ, সেই দলকে আমাদের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে?”
বাড়ির মালিকের অভিযোগ
অভিষেকের এই মন্তব্যের পরেই সামনে এসেছে ওই সম্পত্তির মালিক সুজাতা সরকারের বক্তব্য। বর্তমানে ফালাকাটায় থাকা সুজাতা দেবী অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী উচ্ছেদের মামলা করেছিলেন এবং আমরা সেই মামলায় জিতেও যাই। মামলা জেতার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার স্বামী মারা যান। এরপর বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও ওরা (বিজেপি) পার্টি অফিস ছাড়েনি, ভাড়াও দেয় না। আমি সামান্য পেনশনে দিন গুজরান করি।”
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “পুলিশকে জানিয়েও কাজ হয়নি। পুলিশ বলছে উচ্ছেদ করার মতো ফোর্স নেই। একজন বিধবা মহিলাকে যারা ঠকাতে পারে, তারা সারা দুনিয়ার মানুষকে ঠকাতে পারে।”
বিজেপির পাল্টা দাবি অন্যদিকে, তৃণমূল ও বাড়ির মালিকের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন বিজেপির উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস। অভিষেককে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উনি নিজেই দুর্নীতির পাঁকে ডুবে আছেন। ওই বাড়ির শাশুড়ি মা আমাদের ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু এই মহিলা (সুজাতা সরকার) ভাড়া না নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কেস করেছেন। আমাদের টাকায় পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে, আমরা কেন উঠব? আদালতের স্থগিতাদেশও (Stay Order) আমাদের কাছে রয়েছে।”