গিগ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, পিতৃত্বকালীন ছুটি, মোবাইল সংস্থাগুলির রিচার্জ কেলেঙ্কারি, অনেক কিছু নিয়েই সরব হয়েছিলেন তিনি। জনগণের সমস্যা নিয়ে বার বার সংসদে প্রশ্ন তোলার জন্য জনপ্রিয় ছিলেন ‘আম আদমি’র সাংসদ। কিন্তু দলবদলের পরেই যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। Gen Z-র বিক্ষোভের মতো উত্তপ্ত ইস্যুতে এতদিন নীরব থাকার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার বার নেটিজ়েনদের নিশানায় পড়েছেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে সংসদে মুখ খুললেন বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা।
পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রাঘব বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের মতো জটিল সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য বা সাউন্ডবাইট দিয়ে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা।’
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা দাবি করেন, ছাত্রদের ক্ষোভ সঠিক। একটি প্রশ্নফাঁস বহু বছরের পরিশ্রম মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘দেশের অসংখ্য পরিবার সন্তানদের কোটা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পাটনা বা জয়পুরের মতো শহরে পড়তে পাঠান। অনেক ছাত্র প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্নফাঁস শুধু একটি পরীক্ষা নয়, একটি পরিবারের স্বপ্নও ভেঙে দেয়।’
নিজের দীর্ঘ নীরবতার সাফাই দিতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ জানান, আগে তিনি বিরোধী শিবিরে ছিলেন, ‘এখন সরকার পক্ষের সাংসদ। তাই শুধুমাত্র সমালোচনা নয়, সমস্যার বাস্তব সমাধান করাই তাঁর দায়িত্ব।’ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাত্রদের উদ্বেগকে পরিবারের অভিভাবকের মতো গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সেই কারণেই সরকার আইন সংশোধনের পথে হেঁটেছে।
রাঘব চাড্ডার কথায়,‘ক্যানসারের চিকিৎসা যেমন শুধুমাত্র ক্রোসিন খেয়ে হয় না, তেমনই প্রশ্নফাঁসের মতো সমস্যার সমাধানও শুধু মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে হবে না। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন-সংস্কার দরকার।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সরকার ধাপে ধাপে কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা কমে।
নতুন সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁসকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, সংগঠিত অপরাধচক্রের কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিল অনুযায়ী কোচিং মাফিয়া, প্রিন্টিং প্রেসের কর্মী, লজিস্টিকস সংস্থা, ‘সলভার’ গ্যাং, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত আধিকারির-সহ যে কোনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা, জামিন অযোগ্য মামলা, বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন, দু’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ এবং ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব রয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন রাঘব চাড্ডা। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং দাবি জানানো ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে ছাত্রদের আন্দোলন যেন কোনও রাজনৈতিক দলের সমাবেশে পরিণত না হয়।’ সে দিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই এই আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।