পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমীকরণে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে নিজেদের কৌশলগত প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপে সেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া, বিকল্প পথে পণ্য পরিবহণ এবং ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে চাপে পড়েছে তেহরান।
১৮ অগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বক্তব্য, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী কার্যত বন্ধই থাকবে। ফলে একই জলপথের পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচল বাড়ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বহু জাহাজ ও তেলবাহী পরিবহণকারী নিরাপত্তার কারণে বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছে। ইরানের নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ওমান-সংলগ্ন পথ ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে। ফলে প্রণালীকে নিজেদের কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার তেহরানের ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
অন্যদিকে, আমেরিকা জানিয়েছে যে তারা ইরানের উপর নৌ-অবরোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘদিন বজায় রাখতেও প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইরানের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও। হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে ১৯ অগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপিছু ৯১ ডলারের উপরে উঠে যায়। ইরাক-সহ কয়েকটি দেশও হরমুজের বিকল্প পথে তেল রফতানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে, এমনটা বলার সময় আসেনি। তেহরান হরমুজকে ঘিরে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা হয় কি না, তার উপরই হরমুজের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে।