১৬০০ অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয় মমতার জমানায়, উচ্চ প্রাথমিকের সেই নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল শুভেন্দুর সরকার


উচ্চ প্রাথমিকে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা বিষয়ে তৈরি করা ১৬০০ অতিরিক্ত বা ‘সুপারনিউমেরারি’ শূন্যপদ ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতায় নতুন মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ওই পদগুলির নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পথে হাঁটল বর্তমান সরকার। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল।
২০২২ সালে উচ্চ প্রাথমিকের কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা বিভাগে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য মোট ১৬০০টি অতিরিক্ত পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। এর মধ্যে কর্মশিক্ষায় ৭৫০টি এবং শারীরশিক্ষায় ৮৫০টি পদ রাখা হয়েছিল। ১৯ মে ২০২২ এবং ১৪ অক্টোবর ২০২২-এ এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়।
তবে এই অতিরিক্ত পদ তৈরির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্যানেলের মেয়াদ ২০১৯ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার পরেও পুরনো প্যানেলের অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য নতুন করে সুপারনিউমেরারি পদ তৈরি করা নিয়মসঙ্গত নয়।
গত ৪ ডিসেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ ১৬০০ অতিরিক্ত পদ তৈরির সিদ্ধান্ত বাতিল করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এ ভাবে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা যায় না। আদালত আরও জানায়, অতিরিক্ত পদে নিয়োগ করতে হলে নতুন করে শূন্যপদ ঘোষণা করে পৃথক নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এই রায়ের পরেই ওই নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। রাজ্যের তরফে অবশ্য আগে আদালতে ওই পদগুলিতে নিয়োগের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশের ফলে সেই উদ্যোগ কার্যত ধাক্কা খায়। পরে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চেও মামলা দায়ের হয়েছিল।
১৬০০ অতিরিক্ত পদ বাতিল হওয়ায় কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার অপেক্ষমাণ চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আদালতের রায় এবং সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে ওই প্রার্থীদের নিয়োগের বিষয়টি এখন নতুন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ফলে উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ-জটের তালিকায় ১৬০০ অতিরিক্ত শূন্যপদের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে পুরনো প্যানেল ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নিয়োগের দাবি, অন্যদিকে নিয়োগের নিয়ম মেনে নতুন করে পদ সৃষ্টির প্রশ্ন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই আপাতত আটকে রয়েছে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ।

Post a Comment

Previous Post Next Post