৩৬ মিনিটে পাস হয়েছে সাতটি বিল! একদিনও হয়নি প্রশ্নোত্তর পর্ব, বাদল অধিবেশনে লোকসভায় কাজ হয়েছে ১৫ ঘণ্টা


বাদল অধিবেশনের শেষলগ্নে লোকসভার কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের মধ্যেই এক পর্যায়ে মাত্র ৩৬ মিনিটে সাতটি বিল পাস হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো অধিবেশনে এক দিনও নিয়মিত প্রশ্নোত্তর পর্ব হতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বাদল অধিবেশনে লোকসভায় মোট কার্যদিবসের তুলনায় কার্যকর কাজের সময় ছিল মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। বিরোধীদের একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ, স্লোগান এবং বারবার মুলতুবির জেরে সভার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রশ্নোত্তর পর্বই কার্যত অধিবেশনের সবচেয়ে বড় ‘ক্ষতি’ বলে উঠে এসেছে। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সাংসদরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজ, নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু এই অধিবেশনে সেই সুযোগ নিয়মিতভাবে কার্যকর হয়নি।
অন্য দিকে, হট্টগোলের মধ্যেও সরকার একাধিক বিল পাস করিয়েছে। এক পর্যায়ে সাতটি বিল মাত্র ৩৬ মিনিটে পাস হওয়ায় প্রতিটি বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ কতটা ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বিলের ক্ষেত্রে সাংসদরা সংশোধনী প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
১১ অগস্টও বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে একটি ছিল কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব এবং অন্যটি জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগমের ঋণ ও অনুদান সংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়ানোর বিল। বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে দুটিই কার্যত বিতর্ক ছাড়াই পাস হয়।
ফলে একদিকে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিল পাস করানো এবং অন্যদিকে প্রশ্নোত্তর ও বিতর্কের সময় কার্যত হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংসদীয় কাজের মান ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। অধিবেশনজুড়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সংঘাতই শেষ পর্যন্ত লোকসভার কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকল।

Post a Comment

Previous Post Next Post