ক্ষোভপ্রকাশে শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটারকে শাস্তি আইসিসির, কেন ‘লঘু দণ্ড’ দিয়ে ছাড় যশস্বীকে?


কলম্বো টেস্টে ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজে একের পর এক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নিয়ে চর্চা চলছে। ভারতীয় ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও শ্রীলঙ্কার পেসার অসিথা ফার্নান্ডোর উত্তপ্ত বচসার পর এ বার শাস্তির মুখে পড়লেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার প্রবাথ জয়সূর্যও। তবে দুই ঘটনায় আইসিসির দেওয়া শাস্তির ধরন আলাদা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, যশস্বীকে কেন তুলনামূলক ‘লঘু দণ্ড’ দেওয়া হল?
কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন অসিথা ফার্নান্ডোর বলে আউট হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন যশস্বী। এক পর্যায়ে দুই ক্রিকেটারের মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শও হয়। ঘটনার জন্য দু’জনকেই আইসিসির আচরণবিধির ২.১২ ধারায় লেভেল-১ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দু’জনের ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ জরিমানা এবং একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মাসে দু’জনেরই কোনও পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
অন্য দিকে, দ্বিতীয় দিনের শেষে আউট হয়ে ফেরার সময় ক্ষোভে ব্যাট দিয়ে মাঠের বাউন্ডারি ওয়েজে আঘাত করেন প্রবাথ জয়সূর্য। এই ঘটনাকে আইসিসির আচরণবিধির ২.২ ধারা—আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্রিকেট সরঞ্জাম, মাঠের সরঞ্জাম বা ফিক্সচারের অপব্যবহার—লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়েছে। তাঁকে দেওয়া হয়েছে সরকারি ভাবে তিরস্কার বা ‘অফিসিয়াল রেপ্রিম্যান্ড’ এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। কোনও আর্থিক জরিমানা বা নির্বাসন দেওয়া হয়নি।
তাহলে যশস্বীর ক্ষেত্রে কেন ‘লঘু দণ্ড’? আসলে আইসিসির নিয়মে এই ঘটনাটিও লেভেল-১ অপরাধের আওতায় পড়েছে। পাশাপাশি যশস্বী এবং ফার্নান্ডো দু’জনেই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। তাঁদের আগের ২৪ মাসে কোনও অপরাধের রেকর্ড না থাকাও শাস্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
অন্য দিকে, জয়সূর্যর ঘটনা ছিল ক্রিকেট মাঠের সরঞ্জামের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেটিও লেভেল-১ অপরাধ হলেও আইসিসির সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর ক্ষেত্রে সরকারি তিরস্কারই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছে। অর্থাৎ দু’টি ঘটনাকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা হয়নি; অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য ধারার ভিত্তিতেই শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে যশস্বীর শাস্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর এবং ফার্নান্ডোর মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শের দৃশ্য সামনে আসায় অনেকে আরও কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দু’জনকেই সমান ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে।
ফলে আপাতত নির্বাসনের আশঙ্কা নেই যশস্বীর। তবে ডিমেরিট পয়েন্ট তাঁর শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে যোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post