চিনির পর পিঁয়াজ কিনতেও চোখে জল! সমস্যা সমাধানে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালু করছে মোদি সরকার


চিনি কিনতে ইতিমধ্যেই পকেটে টান পড়া শুরু হয়েছে আমজনতার। পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ছে শর্করাজাত অন্যান্য খাদ্যপণ্যের। এবার পিঁয়াজের দামেও চোখে জল আসার জোগাড়। দেশের প্রায় সব প্রান্তেই অগ্নিমূল্য পিঁয়াজ। ফলে আরও টান পড়ার আশঙ্কা গৃহস্থের ভাঁড়ারে। তড়িঘড়ি সমস্যা সমাধানে আসরে নেমে পড়ল কেন্দ্রও।
এই মুহূর্তে গোটা দেশেই ঊর্ধ্বমুখী পিঁয়াজের দাম। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে দেশে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এই মুহূর্তে গড়ে পিঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪৩ টাকারও বেশি। শহরাঞ্চলে সেই দাম ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। বেশ কিছু বড় শহরে দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। দিল্লিতে পিঁয়াজের দাম প্রায় ৬৫ টাকা প্রতি কেজি, আর চেন্নাইয়ে প্রায় ৫৮ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেরল এবং অসমের কিছু এলাকাতেও তুলনামূলক বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও পিঁয়াজের দাম ৬০ টাকার বেশি।
এমনিতে বরাবরই ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই আনাজটির চাহিদা বেশি। ভারতে সব মিলিয়ে বছরে ২ কোটি মেট্রিক টন পিঁয়াজের প্রয়োজন হয়। সেখানে উৎপাদন অনেকটাই বেশি। গড়ে ৩ কোটি ২০ লক্ষ মেট্রিক টন পিঁয়াজ উৎপাদন করে দেশ। এর একটা বড় অংশ আসে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। সমস্যা হল, নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পিঁয়াজের সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না। নাসিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুদদারির জন্যই এই সমস্যা হলে মনে করা হচ্ছে।
এবার দেশজুড়ে পিঁয়াজের বরাদ্দ বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেনে করে পাঠানো হচ্ছে পিঁয়াজ। দেশের সব বড় শহরেই ওই কান্দা এক্সপ্রেস যাবে। কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি নিধি খারে বলেন যে আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৬ অগস্টের মধ্যে চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, এর্নাকুলাম ও গুয়াহাটিতে পৌঁছে যাবে। এরপরে আরও শহরকে যুক্ত করা হবে এই তালিকায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post