কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়।
পুলিশ ও পুরসভার অভিযোগ, ২৭ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত বিলবোর্ড খুলতে গেলে পুরকর্মী ও পুলিশকে বাধার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং মারধর করা হয়েছে। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসুর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলায় বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, হুমকি এবং চুরির মতো অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার দ্বিতীয় দিকটি উঠে এসেছে পুলিশকর্মীর অভিযোগে। পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর পুলিশকর্মীদের বাধা দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে ও এক কনস্টেবলকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা। তৃতীয় এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, মহিলা পুলিশকর্মীদের সম্ভ্রমহানির উদ্দেশ্যে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল।
এই তিনটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৪ জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই মামলার তদন্তের অংশ হিসাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তবে ৩১ অগস্টের নির্ধারিত হাজিরায় ডেরেক উপস্থিত হননি; আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন বলে খবর। অভিষেককেও পৃথক ভাবে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের তরফে পুলিশের পদক্ষেপ এবং বিলবোর্ড সরানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনা এখন শুধু রাজনৈতিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়েও।