তিব্বতে ফের হ্রদ ভাঙলে ভাসবে বিহার! নদীগুলিতে চলছে কড়া নজরদারি, বাড়ছে আতঙ্ক



ক্ষত শুকনোর আগেই বিপর্যস্ত নেপালকে ফের সতর্ক করেছে চিন। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে লেহন্ডে খোলার অববাহিকার উজানে সৃষ্ট হ্রদটির পাড় ফেটে যেতে পারে। জলের রং পরিবর্তন দেখেই এই ঝুঁকির কথা জানিয়েছে বেজিং। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বিহারে। কারণ, তিব্বতে আরও একটি হ্রদ ভাঙলে ভাসতে পারে ভারতের এই রাজ্যটি। ইতিমধ্যেই ২৪ ঘণ্টা নজরদারি শুরু হয়েছে বিহারের নদীগুলিতে।

বুধবার হড়পা বানের পর তিব্বত ও নেপালের সীমান্তে একটি পাহাড় ধসে পড়ে প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি হয়। ফলে লেহন্ডে নদী সংলগ্ন অঞ্চলে জমে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার জল। শুক্রবার থেকে এই হ্রদের জল উপচে লেহেন্ডে খোলা এবং ত্রিশূলী নদীতে মিশতে শুরু করেছে। তাতেই আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বিহারের গণ্ডকী নদী সংলগ্ন অঞ্চলে। কারণ, নেপাল থেকে বয়ে আসা জলের একটা বড় অংশ জমা হয় বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারেজে। বীরপুর আর কোশি ব্যারেজ খুলে দিলে তার প্রভাবে ভাসতে পারে বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, তিন দিনের মধ্যে ওই হ্রদে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার জল জমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে জলের রং কালো হয়ে যাওয়া মূলত পলি ও জলের চরম চাপের লক্ষণ, যা বাঁধ ভাঙার আগাম ইঙ্গিত দেয়। ফলে আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না কোনওভাবেই।

Advertisement

নেপালের বিদেশমন্ত্রককে দেওয়া বার্তায় চিন জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার ফলে যে হ্রদটি তৈরি হয়েছিল, তার জলের রং ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। যা থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হ্রদটি যে কোনও মুহূর্তে ফেটে যেতে পারে। তবে সেই সঙ্গেই জানানো হয়েছে, জলের পরিমাণ খুব বেশি না হওয়ায় নদীর প্রবাহ সামান্য বাড়লেও জলস্তর উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাবে, এমন সম্ভাবনা নেই। তবুও চিনের তরফে অববাহিকার দিকের জনবসতিগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post