মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা হয়েছিল


কলকাতা: মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল তৃণমূলের লোকসভা সাংসদের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল কৃষ্ণনগর জেলা আদালত। সশরীরে হাজিরা দিতে বলে সমন পাঠানো সত্ত্বেও মহুয়া গরহাজির ছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি হাজির না হওয়াতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল।
কৃষ্ণনগর জেলা আদালত জানিয়েছে, সশরীরে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে আবেদন জানিয়েছিলেন মহুয়া। কিন্তু তিনি সশরীরে হাজির হলে তবেই তা নিয়ে ভাবার অবকাশ থাকত। মামলাটি এখনও ঝুলে রয়েছে আদালতে। চূড়ান্ত রায় শোনায়নি আদালত।
মহুয়ার লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত আনার অভিযোগ ওঠে। ঘূর্ণির বাসিন্দা, ছয় মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, তুলসি মালা নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করে তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানেন মহুয়া। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মহুয়ার কিছু মন্তব্যেও আপত্তি জানান তাঁরা।
শুধু তাই নয়, মহুয়া দেশের সেনাবাহিনীকে অসম্মান করেছেন বলেও অভিযোগ জানানো হয়। 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মহুয়া যে মন্তব্য করেন, তা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, সেনাবাহিনী দেশের গর্ব। সেই সেনাবাহিনীকে অসম্মান করেন মহুয়া।

জাতীয় রাজনীতিতে বার বার আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে মহুয়াকে। ঘুষের বিনিময়ে আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই নিয়ে সংসদীয় কমিটি তদন্ত শুরু করে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেও আইনি জটিলতা বাড়ছে তাঁর। ডিম ছোড়ার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন মহুয়া। সেই সময় আদালত তাঁর উদ্দেশেই প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। বলা হয়, "স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশের জন্য গুলি পর্যন্ত খেয়েছেন। আর তিনি ডিমকে ভয় পাচ্ছেন?"

এর পর কৃষ্ণনগরে গিয়ে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মহুয়া। তিনি যে সার্কিট হাউসে ছিলেন, তার বাইরে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে দেখে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তোলেন বলে অভিযোগ করেন মহুয়া। এমনকি সার্কিট হাউসের ঘর ছেড়ে তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়, প্রশাসনের নির্দেশ সামনে রেখে ঘর ছাড়তে বলা হয় বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন মহুয়া। আর তার পরই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল।

Post a Comment

Previous Post Next Post